নিলাম ছাড়াই সেতু ভেঙে বাড়িতে নিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৮ PM
এই সেতুটি প্রায় দুই যুগ ধরে চারটি গ্রামের একমাত্র যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল

এই সেতুটি প্রায় দুই যুগ ধরে চারটি গ্রামের একমাত্র যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল © টিডিসি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক কোনো দরপত্র বা নিলাম ছাড়াই দুই যুগ পুরোনো একটি সেতু ভেঙে এর নির্মাণসামগ্রী ব্যক্তিগতভাবে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চার গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। 

অভিযুক্ত ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখলেছুর রহমান মণ্ডল নতুন সেতু নির্মাণের অজুহাত দেখালেও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) দাবি করেছেন, সেতুটি অপসারণের কোনো নিলাম প্রক্রিয়া এখনো শুরুই হয়নি।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজিবপুর গ্রামে অবস্থিত ভেলার বাজার-দক্ষিণ রাজিবপুর সংযোগ সড়কের প্রায় ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি প্রায় দুই যুগ ধরে চারটি গ্রামের একমাত্র যাতায়াত পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। গত মাসের শুরুতে চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান তার ব্যক্তিগত শ্রমিক নিয়ে এসে নতুন সেতুর টেন্ডার পাওয়ার দাবি করে পুরোনো সেতু ভাঙার কাজ শুরু করেন। টানা ৮-১০ দিনের কাজে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার ইট এবং অজস্র লোহার রড ট্রাক্টর ও ভ্যানে করে চেয়ারম্যানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর হঠাৎ করেই সকল কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেতুটির অর্ধেকের বেশি অংশ ধ্বংস হওয়ায় বাকি অংশ ঝুলে থাকা অবস্থায় রয়েছে, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে সড়কের দুপাশ মাটি কেটে একটি বিপজ্জনক ঢালু পথ তৈরি করেছেন। রিকশা, ভ্যান ও পথচারীরা সেখান দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয় সিএনজি চালক নজরুল ইসলাম বলেন, এখন চলাচল আগের চেয়েও ভয়ঙ্কর। সামনে বর্ষা এলে স্কুল-কলেজে যাওয়া শিশুদের কী অবস্থা হবে, ভাবলেই শঙ্কা হয়।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান প্রথমে বলেন, নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য এটি ভাঙা হচ্ছে এবং অনুমতি সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা অফিসে আছে। তবে পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘ব্রিজ টেন্ডারে আমি পেয়েছি। ভোটের কারণে কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি। বাকি অংশও ভোটের পরে নিয়ে আসব।’

এদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মশিউর রহমান চেয়ারম্যানের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘সেতুটি অপসারণের জন্য এখনো কোনো নিলাম বা টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। চেয়ারম্যানকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি এটি ভেঙেছেন। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনিয়ম।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, নিলাম ছাড়া কোনো সরকারি স্থাপনা ভাঙা সম্পূর্ণ অনিয়ম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিশোরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা…
  • ১৭ জুন ২০২৬
রোহিঙ্গা প্রতবাসন‌ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর…
  • ১৭ জুন ২০২৬
মাছ আমদানিতে শুল্কের কড়াকড়ি, বেনাপোল বন্দরে কমেছে ট্রাকের স…
  • ১৭ জুন ২০২৬
মেসিকে কি লাল কার্ড দেওয়া উচিত ছিল?
  • ১৭ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক জার্নাল র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশসেরা বাকৃবির ‘জাভার’, এ…
  • ১৭ জুন ২০২৬
যুক্ত আরও এক মডেল, এবার ৮ মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে প…
  • ১৭ জুন ২০২৬
×