পিস্তল তাক করায় গণপিটুনি, বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর

১৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৭:১৭ PM
গণপিটুনির হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

গণপিটুনির হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে চেষ্টা করছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী © সংগৃহীত

স্বামীকে এলোপাতাড়ি গণপিটুনি দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এক শিক্ষার্থীর বুকে ‘পিস্তল ঠেকিয়েছেন’ এমন রবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। আর চতুর্দিক থেকে জড়ো হচ্ছেন আরও শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রাইভেট কার থেকে ছুটে আসলেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী। উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ লড়েও যান। সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। এসময় পাশে থাকা পুলিশ এগিয়ে আসেন। পরে হেলমেট পরিয়ে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয় ওই ব্যবসায়ীকে। 

শাহবাগ থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, গণপিটুনির শিকার ওই ব্যক্তির নাম আসিফ রশিদ খান। দুবাইপ্রবাসী এই ব্যক্তি পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর পিস্তল ও শর্টগান দুটি লাইসেন্স করা। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তিনি। 

আরও পড়ুন: সভাপতি হতে না পেরে মাদ্রাসায় ভাংচুর ও লুটপাট চালাল যুবলীগ নেতা

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের এক সংবাদদাতা বলেছেন, ‘দীর্ঘক্ষণ শাহবাগ মোড়ে জ্যামে আটকে রয়েছে ওই দম্পতির প্রাইভেট কারটি। ভেতরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছোট বাচ্চারাও ছটফট করছিল। তাই আটকে থাকা গাড়িটি ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করতে শিক্ষার্থীদের নিকট গিয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। তখন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান তিনি। পরে কিছু শিক্ষার্থীদের উগ্র আচরণের একপর্যায়ে উভয়পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই ‘বিরক্ত’ হয়ে তিনি পকেট থেকে পিস্তল বের করে এক শিক্ষার্থীর বুকে তাক করেন।’

ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, ‘ঢাবি শিক্ষার্থীদের অস্ত্র ঠেকানোর ঘটনাটা আমি দেখেছি। আসলে লোকটার গাড়িতে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুইটা ছোট ছোট মেয়ে ছিলো। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের মধ্যে জগন্নাথ হলের প্রথম বর্ষের কিছু ছাত্র এতটাই উগ্র ও মারমুখী আচরণ করছিলো যে লোকটা অসহ্য হয়ে তাঁর কাছে থাকা অস্ত্র বের করে। এসময় উগ্র কিছু ছাত্র তাঁর গাড়িতেও হামলা চালায়। গাড়িতে থাকা ছোট ছোট বাচ্চারা কি পরিমাণ ট্রমাটাইজড হইছে আমি দেখেছি।’

গণপিটুনির শিকার ওই ব্যবসায়ী দম্পতিতে উদ্ধার করে হেফজতে নিচ্ছে পুলিশ

এদিকে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুজন শিক্ষার্থী বলেন, অবরোধের সময় ওই ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে চলে যেতে চাইছিলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাঁকে বাধা দেন। এ সময় তিনি গাড়ি থেকে নেমে পকেট থেকে পিস্তল বের করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্র কপিল দেব বর্মণের বুকে তাক করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ হেলমেট পরিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

ব্যবসায়ী দম্পতির গাড়িটি শাহবাগ থানায় নেয় পুলিশ

রমনা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার এসএম শামীম বলেন, “উনি (ব্যবসায়ী) স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গাড়ি করে যাচ্ছিলেন। শাহবাগ মোড়ে যানজটে আটকা পড়ে বিরক্ত হয়ে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে গাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তখন শিক্ষার্থীরা তাকে মারধর করেছে।”

‘ষড়যন্ত্র-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্যই’ পূজার দিনে নির্বাচন: নুর

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আজিমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, পিস্তল তাক করে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার একটি মৌখিক অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন। মারধরের ঘটনার একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। তাঁর গাড়ি থেকে একটি শর্টগান ও একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সরস্বতী পূজার দিনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির নির্বাচন বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করতে পদযাত্রা করে তারা। পরে শাহবাগে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল ছাড়াও বিভিন্ন হলের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন। পরে তারা প্রায় দুই ঘন্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে। এসময় সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও তাদের কর্মসূচি রয়েছে। 

৩০ জানুয়ারি পূজা নয়, শিক্ষার্থীরা না বুঝে আন্দোলন করছে: ইসি সচিব

হামের উপসর্গ নিয়ে ঝরল আরও ১০ শিশুর প্রাণ
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা এনস…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাজ্যের বিসিআইয়ের সদস্য পদ পেল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রীদের ফুটবল খেলার ভিডিও ধারণ নিয়ে বিএনপি নেতার ছেলের তু…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
কোনদিন অনলাইন ক্লাস, কোনদিন অফলাইন—পরিকল্পনা জানালেন শিক্ষা…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতার ১৮১ কোটি টাকা ছাড়, পাবেন যেদিন
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
close