প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কেটে দিচ্ছে গ্রামবাসী © সংগৃহীত
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগে এক প্রবাসীর স্ত্রীর (২৫) গাছে বেঁধে মারধর ও চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নারীর কথিত প্রেমিককেও আটকের পর মারধর করে গাছে বেধে রাখে স্থানীয় লোকজন। সম্প্রতি এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চর কৃষ্ণপুর গ্রামের বেপারিডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের একটি গ্রামে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ওই নারীর বসতঘরে তাঁর কথিত প্রেমিক রনি বেপারীকে (২২) দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। রনি একই গ্রামের সৈয়দ বেপারীর ছেলে। পরে তাঁদের দুজনকে আটক করেন স্থানীয়রা। এর পরদিন রোববার সকালে ওই নারীর চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি প্রবাসীর বাড়ির ঘরের মাচা থেকে রনি বেপারীকে টেনেহিঁচড়ে নামাচ্ছেন। অন্য একটি ভিডিওতে তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন মিলে কাঁচি দিয়ে ওই নারীর চুল কেটে দিচ্ছেন। তবে চুল কাটার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রবাসীর মা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলে বিদেশে যাওয়ার পর থেকে পুত্রবধূ বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেন তিনি। ঘটনার রাতে ওই নারীর ঘরে তাঁর কথিত প্রেমিককে প্রবেশ করতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। পরে তাঁকে ঘরের মাচা থেকে আটক করা হয়। এ সময় ঘরের ভেতর থেকে ইয়াবা সেবনের উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চুল কেটে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসীর মা বলেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে অনেক মানুষ বাড়িতে জড়ো হন। কারা চুল কেটেছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেন না।
ভুক্তভোগী নারীর ১০ বছর বয়সী মেয়ে জানায়, রনি মাঝেমধ্যে তাঁদের বাড়িতে আসতেন। ঘরের মাঝামাঝি কাপড় টাঙিয়ে তাঁরা সময় কাটাতেন বলে দাবি করে শিশুটি। এ বিষয়ে কাউকে কিছু বললে তার মা তাকে মেরে ফেলার এবং পরে আত্মহত্যা করার হুমকি দিতেন বলেও জানায় সে। পরে গ্রামবাসী রনিকে আটক করার পর তার মায়ের চুল কেটে দেন বলে জানায় শিশুটি।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, রনি বেপারী তাঁদের কাছে এক লাখ টাকা পাবেন। ওই দিন রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে টাকা নিতে রনি তাঁর মেয়ের ঘরে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর মেয়ের চুল কেটে দেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।