হত্যা: প্রতীকী ছবি © ফাইল ফটো
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় মনির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দিন নিহত আলমগীর কবির নিজেই অভিযুক্ত মনিরকে তাঁদের বাসায় ডেকে আনেন। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে নাজমা খাতুন ও তাঁর স্বামী আলমগীরকে হত্যা করা হয়। এ সময় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমার প্রসব হওয়া নবজাতকেরও মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী। তিনি জানান, সোমবার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডের আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য তদন্ত শেষে জানানো হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কারখানার কাজ শেষে গার্মেন্টসকর্মী নাজমা খাতুন (৩৯) ও তাঁর স্বামী পান-সিগারেট বিক্রেতা আলমগীর কবির (৪৫) জামগড়ার বাসায় ফেরেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর আগে বা পরে আলমগীর মনিরকে বাসায় ডেকে আনেন। পরকীয়ার বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে মনির তাঁদের হত্যা করে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। নিহত আলমগীরই মনিরকে ডেকে এনে সতর্ক বা মারধর করতে চেয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত নাজমা খাতুন দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড়পুকুরিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমানের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁর স্বামী আলমগীর কবির পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। নাজমা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে নাজমা ও আলমগীরের মরদেহ এবং তাঁদের নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের এসআই আনিসুর রহমান বাপ্পী বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করি। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য ও হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হবে।’