দুপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ম্যাজিস্ট্রেট, বিকেলে পালাল কিশোরী

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৬ PM
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বন্ধ করা বিয়ের কার্যক্রম

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বন্ধ করা বিয়ের কার্যক্রম © সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির রামগড়ে ১৩ বছর বয়সী এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বিয়ের সব আয়োজন শেষ হওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট বিয়েবাড়িতে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। কনের বাবাকে করা হয় ১০ হাজার টাকা জরিমানা। উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে নেওয়া হয় লিখিত মুচলেকা। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বরযাত্রীদেরও বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই সেই কিশোরী পাত্রের সঙ্গে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

রবিবার (৯ আগস্ট) খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আজ বৃহস্পতিবার এসব কথা জানান পাতাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলম।

তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘থলিপাড়া গ্রামের যে মেয়েটির বিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েক দিন আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন বিকেলেই ওই পাত্রের সঙ্গে সে পালিয়ে গেছে। মেয়েটি অন্য কোথাও যায়নি। যে ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল, তার সঙ্গেই পালিয়ে গেছে। বিয়ে যেখানে হওয়ার কথা ছিল, সেখান চলে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় আমরা কী করতে পারি? আমরা আমাদের জায়গা থেকে অনেক চেষ্টা করি। এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করি। এলাকায় অনেকে জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজের জন্য আসে। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে সামাজিকভাবে বিরোধও হয়। গ্রামের মানুষের মধ্যে এখনো এ ধরনের বিষয় মেনে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়নি।’

আরও পড়ুন: এক মাস দেরিতে শেষ হচ্ছে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি, ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা

স্থানীয়রা জানান, রামগড় উপজেলার থলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মহিন উদ্দিন মানিকের ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ফারহানার সঙ্গে একই উপজেলার বলিপাড়া গ্রামের মো. ইউছুপের ছেলে সাখাওয়াত হোসেনের (২৫) বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল রবিবার। সে অনুযায়ী কনের বাড়িতে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। যথাসময়ে বরপক্ষও বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হয়। বরযাত্রীদের খাওয়া-দাওয়াও শেষ হয়। এর মধ্যে বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত পুলিশসহ বিয়েবাড়িতে উপস্থিত হন। কনের জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে বয়স ১৩ বছর নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিয়ের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে না দেওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক কনে ছাড়া বিয়ে না করার বিষয়ে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বরকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিকেলেই সেই পাত্রের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন ওই পাত্রী।

বাল্যবিয়ে আয়োজনের অপরাধে কনের বাবা মো. মহিন উদ্দিন মানিককে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বিয়ে না দেওয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক কনে ছাড়া বিয়ে না করার বিষয়ে পাত্র ও পাত্রী উভয় পক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত বলেন, ‘পাত্রীর জন্মনিবন্ধন সনদ যাচাই করে দেখা যায়, তার জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩। সে হিসেবে বর্তমানে তার বয়স ১৩ বছরের কিছু বেশি। সে স্থানীয় একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। এই শিশু বয়সে বিয়ে দেওয়া শুধু আইনত অপরাধ নয়, অত্যন্ত জঘন্য কাজ। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি।’

তিনি বলেন, ‘বিয়েবাড়িতে উপস্থিত সবাইকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে। তারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। তার উপস্থিতিতেই পাত্রপক্ষকে তাদের নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

তথ্য সংগ্রহকারী পদে বিএনপি নেতার স্ত্রী-মেয়ে-ভাতিজা-ভাতিজি …
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
অ্যাকাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবিতে ঢাকা কলেজের মূল ফটকে তালা
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহ নগরীতে দুপুরে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
নগদ ও সিটিজেনস ব্যাংকের মধ্যে অংশীদারিত্ব চুক্তি
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে স্কয়ার ফুড, আবেদন ১৮ আগস্ট পর্যন্ত
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
অসুস্থতার কথা জানালেও বন্ধ হয়নি সিনিয়রদের র‌্যাগিং, গুরুতর …
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬