বন্যা পরিস্থিতিতের চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রথম কয়েকটি পরীক্ষায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হচ্ছে প্রায় এক মাস দেরিতে। দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা যেখানে ইতোমধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছে; সেখানে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীদের এখনো লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়নি। এতে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের মধ্যে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত থাকা লিখিত পরীক্ষাগুলো আগামী ২০ আগস্ট শুরু হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। ফলে দেশের অন্য বোর্ডের শিক্ষার্থীদের তুলনায় চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কম সময় পাচ্ছেন। এ বছর এখন পর্যন্ত দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় দুটি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
গত ২ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাধারণ ভর্তি কমিটির সভায় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তির অনলাইনে আবেদন শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে ১২ ডিসেম্বর ২০২৬। কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের পরীক্ষা ১৯ ডিসেম্বর। ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের পরীক্ষা হবে ২৬ ডিসেম্বর। চারুকলা ইউনিটের সাধারণ জ্ঞান ও অঙ্কন পরীক্ষা হবে ২২ ডিসেম্বর। আর আইবিএ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হবে ৫ ডিসেম্বর।
এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ইউজিসি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পদ্ধতিগতভাবে যেভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটিও আমরা দেখছি। এই মুহূর্তে কমিশনের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তাভাবনা নেই। যদি এ বিষয়ে কোনো গুরুতর উদ্বেগ বা সমস্যা তৈরি হয়, তখন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আপাতত আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।— প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ, চেয়ারম্যান, ইউজিসি। (চট্টগ্রামে এইচএসসি দেরিতে শেষ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখে কোনো পরিবর্তন আনার বিষয়ে)
অন্যদিকে ৯ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে একাডেমিক কাউন্সিলের ৮০তম বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জবির সূচি অনুযায়ী, ইউনিট-এ-এর পরীক্ষা হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭। ইউনিট-ই-এর পরীক্ষা ৮ জানুয়ারি। ইউনিট-বি-এর পরীক্ষা ১৫ জানুয়ারি। ইউনিট-সি-এর পরীক্ষা ২২ জানুয়ারি এবং ইউনিট-ডি-এর পরীক্ষা ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। সব ইউনিটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত হবে। পরীক্ষাগুলো বহুনির্বাচনী প্রশ্নের (এমসিকিউ) ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। সব ইউনিটের পরীক্ষা শুধু ঢাকায় নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এইচএসসি পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় তারা অন্য বোর্ডের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শেখ রাহাদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, স্থগিত হওয়া পরীক্ষা পেছানোয় তাদের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আসনের জন্য অনেক প্রতিযোগিতা করতে হয়। পরীক্ষার যত দিন পেছানো হয়েছে, তত দিন তাঁরা অন্য বোর্ডের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিছিয়ে গেছেন। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সময় বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, দীর্ঘদিন তারা পরীক্ষার অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। এখন পরীক্ষা শেষ করতে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ছেন। অন্য বোর্ডের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষ হলেও তারা এখনো পরীক্ষার টেনশনে আছেন। এতে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার লড়াই আরও কঠিন হয়ে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
শিক্ষার্থী সাকিব চৌধুরী বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। কারণ তাঁদের প্রস্তুতির সময় অন্যদের তুলনায় কম।
এ বছর দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। বাংলা প্রথমপত্রের লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে গত ২ জুলাই পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। এরপর ৯ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া যায় কি না সেইটি নিয়ে আমরা আলাপ করবো। যাতে করে শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তি প্রক্রিয়াটি আরও সমন্বিত ও সমানভাবে পরিচালনা করা হয়।—অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান, সভাপতি, আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড
চলতি বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। সারা দেশে ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন। তারা ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক অবস্থা, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার দুর্ভোগ বিবেচনায় গত ৮ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় প্রথমে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য এই বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। একই সিদ্ধান্তের আওতায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছিল। যদিও ওই সময়ে চট্টগ্রাম বোর্ডের বাইরে দেশের অন্য সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চলতে থাকে।
এদিকে পরিস্থিতির উন্নতি হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর গত ২৩ জুলাই শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ঘোষণা দেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত থাকা অবশিষ্ট পরীক্ষা ২৭ জুলাই থেকে পুনরায় শুরু হবে। এরপর পরীক্ষার্থীরা কার্যকর নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী অবশিষ্ট পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে স্থগিতাদেশ জারির আগে যেসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেগুলো পরে নতুন সময়সূচি প্রকাশ করে পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সেই অনুযায়ী চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষাগুলোর নতুন সংশোধিত সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, স্থগিত লিখিত পরীক্ষাগুলো ২০ আগস্ট শুরু হয়ে ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য বোর্ডের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ২ আগস্ট উচ্চতর গণিত পরীক্ষার মধ্য দিয়ে লিখিত পরীক্ষা শেষ করেছেন। বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়েছে ৮ আগস্ট। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষাও ৮ আগস্ট শেষ হয়েছে। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছে ১ আগস্ট। ফলে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক কুতুব উদ্দিন তুষার বলেন, বোর্ড পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ভর্তি পরীক্ষা পর্যন্ত সময়টি ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা সময় কম পাচ্ছেন। বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগের। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অন্তত এক মাস সময় বাড়ালে তাঁরা ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন।
একই কলেজের পরীক্ষার্থী সাব্বির হোসেন বলেন, যথাসময়ে পরীক্ষা শেষ হলে অন্য বোর্ডের শিক্ষার্থীদের মতো তারাও ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পেতেন। এখন সেই সময় না পাওয়ায় তারা চিন্তিত। শিক্ষার্থীরা তাদের জন্য ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর দাবি জানান।
নিজামপুর সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী নওশীদ জাহান বলেন, ভর্তি পরীক্ষার আগে সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষা পেছানোর কারণে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তাঁদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাঁদের বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আশা করেন তিনি।
এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এই পরিস্থিতি অন্যভাবে দেখার সুযোগ নেই। এইচএসসি পরীক্ষা কোনো কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়নি। বিশেষ কারণেই পরীক্ষা পিছিয়েছে। এখন সেই বিষয়টি মাথায় রেখে অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি কার্যক্রমের বিষয়ে অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে আমরা প্রত্যাশা করব, শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত হবে না। এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া যায় কি না সেইটি নিয়ে আমরা আলাপ করবো। যাতে করে শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তি প্রক্রিয়াটি আরও সমন্বিত ও সমানভাবে পরিচালনা করা হয়।’
শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে— শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দুইভাবে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে থাকে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের মতো করে পৃথকভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। আবার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়। এই দুই পদ্ধতিতেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।’
চট্টগ্রামে এইচএসসি দেরিতে শেষ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখে কোনো পরিবর্তন আনার চিন্তা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ইউজিসি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পদ্ধতিগতভাবে যেভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, সেটিও আমরা দেখছি। এই মুহূর্তে কমিশনের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ নেওয়ার চিন্তাভাবনা নেই। যদি এ বিষয়ে কোনো গুরুতর উদ্বেগ বা সমস্যা তৈরি হয়, তখন কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আপাতত আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’