বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে বন্যা দুর্গতদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ © টিডিসি ফটো
সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় আতঙ্কে ত্রাণ নিতে আসা বন্যাদুর্গতরা প্রাণভয়ে স্থান ত্যাগ করায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাটগড় বিওসি’র মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- মো. আকতার সওদাগর, মো. ইব্রাহিম, আবদুল আলিম, মোস্তাক ও সেলিম। তাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, শনিবার বিকালে কালিয়াইশ ইউনিয়নের বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে আসেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীম আহমেদ। তিনি প্রথমে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেষ্ট হাউসের সামনে সারিবদ্ধ মহিলাদের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
একই সময় বিওসি’র মোড় এলাকায় স্থানীয় বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে এমপিকে স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে জড়ো হলে আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচিত কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়।
এ সময় পুলিশ সদস্যরা এমপিকে গাড়িতে তুলে দেন এবং তারাসহ কেরানীহাটের দিকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্দেশ্যে চলে যান। এরপর রুবেল নামে এক ব্যক্তি জসিম ডেকোরেশনের সামনে প্রকাশ্যে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিওসি’র মোড়ের পূর্বদিকে পাঁচতলা এলাকায় আরও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়।
উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক উপজেলা যুবদলের সংগঠক শাহাদাৎ হোসেন মোস্তাক বলেন, আমরা এমপিকে রিসিভ করে বিওসি'র মোড়ের দিকে আসার সময় কয়েকজন ছেলে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এর কিছুক্ষণ পর এমপির প্রটোকল রক্তার্থে এক সিকিউরিটি স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে ধাক্কা দেন। পরবর্তীতে এমপি সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের উপর হামলা করা হয়।
কালিয়াইশ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমির হোসেন বলেন, মূলত হাফেজ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে এমপি চলে যাওয়ার পর কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রুবেল নামের এক ছেলে একটি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করেন। পরে পাঁচতলা এলাকায়ও দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করা হয়।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই সময় আমি এমপির সঙ্গে ছিলাম। দু'পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে আমরা সেখান থেকে এমপিসহ পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা হই। এরপর সেখানে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। পুরো বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। গুলিবর্ষণের সত্যতা মিললে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।