বিদেশে উচ্চশিক্ষায় চটকদার বিজ্ঞাপন
মো. খায়রুল বাশার বাহার © ফাইল ছবি
বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের মালিক মো: খায়রুল বাশার বাহার ও তার সহযোগীদের পারস্পরিক যোগসাজশে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য স্বল্প খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রেরণের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে প্রাথমিক সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার সূত্র ধরে, তার নামে থাকা প্রায় ৩৩ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ প্রদান করেছে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন বলে জানা গেছে। আজ রবিবার (১২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিআইডি জানায়, খায়রুল বাশার বাহারের বিরুদ্ধে গুলশান (ডিএমপি) থানায় ২০২৫ সালের মে মাসে এই মামলা করা হয়। পরে তাকে ওই বছরের জুলাই মাসে ধানমন্ডি থানা এলাকা থেকে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
মামলাটির প্রাথমিক তদন্তকালে জনা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে বড় স্ত্রীর নামে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় ১টি ফ্ল্যাট, ২য় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা প্রকাশ ডোনার নামে শেলটেক বিথীকা প্রকল্পে ১টি ফ্ল্যাট ও নিজ নামে রাজাবাজার এলাকায় ২টি ফ্ল্যাট এবং রাজধানীর আজিজ সড়কে জি+৭ তলা ও জি+৬ তলা বিশিষ্ট ২টি বাড়িসহ তার নিজ নামে ও প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৩৪৮২.৫ শতাংশ ক্রয় করে। যার দলিল মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট-এর আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আসামির নামে থাকা এই স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ প্রদান করেছে।
সিআইডি জানায়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মো: খায়রুল বাশার বাহার নিজেকে একজন শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দিলেও এর আড়ালে তিনি বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সহযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান করা হচ্ছে।