অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম © সংগৃহীত
রাজধানী ওয়ারীর শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র ও মাদকের গডফাদার ইসমাইল হোসেন ওরফে সজল ওরফে অটো সজলসহ তার ৩ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- ১। ইসমাইল হোসেন ওরফে সজল ওরফে অটো সজল (৩১) ২। মো. বাপ্পী (২৮) ৩। মো. হানিফ (৪০) ও ৪। মোছা. শামসুন্নাহার (৪৫)।
যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ মার্চ) মাদক উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেফতারের জন্য পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযান চলাকালীন ৩/৪ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শককে পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় ওয়ারী থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়।
মামলাটি তদন্তকালে ওয়ারী থানা পুলিশ প্রথমে তিন জনকে গ্রেফতার এবং তাদের হেফাজত থেকে ৩টি অস্ত্র উদ্ধার করে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতরা বিজ্ঞ আদালতে কার্যবিধির কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তাদের জবানবন্দিতে প্রকাশ পায় যে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করেছিল ওয়ারী বিভাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং অস্ত্র-মাদকের গডফাদার সজল ওরফে অটো সজল। এর পর থেকেই অটো সজলকে গ্রেফতারের জন্য ওয়ারী বিভাগের বিভিন্ন থানা পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে।
আরও পড়ুন: ১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি করল সরকার
এরই ধারাবাহিকতায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আনুমানিক ৯টায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম যাত্রাবাড়ী থানাধীন সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন ওরফে সজল ওরফে অটো সজলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত সজলের বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় পূর্বের ১১ টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সজলকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে স্বীকার করে যে, ওয়ারী বিভাগের গেন্ডারিয়া থানাধীন স্বামীবাগ এলাকায় তার একটি ভাড়া বাসায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক মজুত রয়েছে। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আনুমানিক ১০টায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ উক্ত স্বামীবাগের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে অটো সজলের আরও তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করে এবং সেখান থেকে ০২ টি ‘টরাস’ ব্র্যান্ডের পিস্তল, ০৪ টি ম্যাগাজিন এবং ৭৭ (সাতাত্তর) রাউন্ড তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন এবং হেরোইন প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত ৮৭ গ্রাম ‘মেডি’, মাদক বিক্রয়ের নগদ ২২ হাজার ৯৬০ টাকাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ০৪ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করাসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।