গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল © সংগৃহীত
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের ডায়েরিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ ঝরনা বেগমের বিরুদ্ধে হাসপাতালের ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বাইরে এক নারীর কাছে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে গাইবান্ধা শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে থেকে ওই নারীকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার কাছে থাকা ময়লার বস্তা তল্লাশি করে তিন কার্টন ইনজেকশন সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই নারী সন্দেহজনকভাবে একটি বস্তা নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। স্থানীয়রা তাকে আটক করে বস্তা তল্লাশি করলে এ ঘটনা প্রকাশ পায়। আটক নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, হাসপাতালের ডায়েরিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ ঝরনা বেগম তাকে এসব সিরিঞ্জ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ঝরনা বেগম বহিরাগতদের দিয়ে কাজ করানোর বিনিময়ে তাকে এসব মেডিকেল সামগ্রী সরবরাহ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি এসব ব্যবহৃত সিরিঞ্জ পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হয় বা অনিরাপদ উপায়ে ফেলা হয়, তাহলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও সুঁচ পুনরায় ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে, যা এইচআইভি, হেপাটাইটিসসহ নানা মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে।
অভিযুক্ত ইনচার্জ ঝরনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, তিনি বহিরাগত শ্রমিকদের দিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন কাজ করান, আর সে কাজের বিনিময়েই তিনি ওই নারীকে সিরিঞ্জগুলো দিয়েছেন।
গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিব রহমান জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের মনিটরিং বাড়ানো হবে।
আটক নারী ও উদ্ধার সিরিঞ্জ জব্দ করে থানায় খবর দেওয়া হয়েছে । গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।