অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাময়িক বরখাস্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানা থেকে তাকে মহানগর দায়রা ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে হাজির করা হয়।
এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে অবৈধ সম্পদ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদকের মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ। ডিআইজি মিজানুর রহমানের আগাম জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। গ্রেফতারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে হাজির করতে বলা হয়।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ সোমবার বিকালে ডিআইজি মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। শুনানির একপর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, ‘সে (ডিআইজি মিজান) পুলিশের ভাবমূর্তি পুরোপুরি নষ্ট করেছে। আমরা টিভিতে দেখেছি, (দুদকের একজন পরিচালককে) ঘুষ দেয়ার ব্যাপারে সে ডেসপারেট বক্তব্য দিয়েছে।’
এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠায় গত বছর জানুয়ারিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয় ডিআইজি মিজানুর রহমানকে। পরে তার বিরুদ্ধে পুলিশের সদর দফদতর ও দুদক থেকে পৃথকভাবে অনুসন্ধান শুরু হয়।
গত বছরের মে মাসে দুদকের পক্ষ থেকে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরুর পর ডিআইজি মিজান ও তার স্ত্রী রত্না রহমান সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। তা যাছাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানে মাঠে নামে দুদক টিম। উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করলে তাকে দুদক থেকে সরানোর ব্যবস্থা করেন। পরে পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি ২৩ মে ২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশসহ অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন।
কিন্তু তার বিরুদ্ধে ‘হালকা অনুসন্ধান’ ও মামলা না করার মতো অনুসন্ধান করতে পরিচালক বাছিরের সঙ্গে জানুয়ারি থেকে গোপন আলোচনা শুরু করেন ডিআইজি মিজান। বাছিরও তার ফাঁদে পা দেন। তিনি মিজানকে রক্ষার জন্য ৪০ লাখ টাকা নেন। এর মধ্যে ১৫ জানুয়ারি রমনা পার্কে ২৫ লাখ টাকা ব্যাগে করে দেন ডিআইজি মিজান। এরপরও মামলার সুপারিশ করায় বাছিরকে ধরেন ডিআইজি মিজান। তিনি মামলার জন্য দুদক চেয়ারম্যান চাপ দিচ্ছিলেন বলে ডিআইজি মিজানকে বোঝানোর চেষ্টা করেন।
ডিআইজি এসব রেকর্ড করে রাখেন এবং ৯ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে এসব তথ্য দেন। তার বক্তব্য ও তথ্যের ভিত্তিতে ওই টেলিভিশন দু’জনের ৪০ লাখ টাকা ঘুষ কেলেঙ্কারির প্রতিবেদন প্রচার করে। ওই দিনই বিষয়টি কমিশনের নজরে এলে দুদক সচিবের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
মামলা হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে ডিআইজি মিজানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। অপরদিকে, ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় ডিআইজি মিজানকে ১ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের কথা ছিল। কিন্তু তিনি সময় চাওয়ায় তাকে ৮ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।