ওরা কয়, তোর নিস্তার নেই

৩০ জুন ২০১৯, ০৭:৩৪ PM

অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রক্তাক্ত এক কিশোর বসে আছে। এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই কিশোরের নাম শাহীন আলম (১৬)। শুক্রবার সকালে হামলার দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন শাহীন। এসময় প্রাণ বাঁচাতে দুর্বৃত্তদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেছিল যশোরের ওই কিশোর। কিন্তু নিস্তার মেলেনি।

বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন শাহীন। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বাইরে মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন তার মা মোসাম্মত খাদিজা। তিনি বলেন, চেতনা থাকা অবস্থায় মাঝে মাঝেই চিৎকার করে উঠত শাহীন। বলে উঠত, দুর্বৃত্তদের কাছে তার মিনতির কথা। আহত শাহীন স্বজনদের শুধু এটুকুই বলতে পারছিল।

শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয় শাহীনকে। রাতেই তার অপারেশন করা হয়। অপারেশন শেষে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শাহীনের মা খাদিজা বলেন, ‘শুক্রবার সকালে সাতটার সময়ে শাহীন ভ্যান নিয়ে বাইর হয়ে যায়। দুপুরে গ্রামের মেম্বার ফোন করে শাহীনের কথা জানায়। প্রথমে শুনেছিলাম ও মারা গেছে। পরে ওরে আমরা খুলনা হাসপাতালে নিয়ে যাই। পথের মধ্যেই বারবার চিল্লায়ে উঠতেছিল, এত করে কলাম, আমারে মারিস না। ওরা কয় তোর নিস্তার নেই।

শুক্রবার দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়। কয়েকজন দুর্বৃত্ত ওই দিন যাত্রীবেশে তার ভ্যান ভাড়া নেয়। শাহীন তাদের নিয়ে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়ার নামক এলাকায় যাচ্ছিল। পথে একটি পাটখেতের পাশে শাহীনের ভ্যানটি দাঁড় করায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা শাহীনের মাথায় আঘাত করে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। আঘাত ও রক্তক্ষরণের ফলে অচেতন হয়ে পড়েছিল শাহীন। পরে চেতনা ফিরলে কাঁদতে শুরু করে সে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানায় খবর দেয়।

শাহীনের খালু রবিউল বাশার বলেন, ভ্যান ও শাহীনের সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন—সবই নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। শাহীন মারা গেছে ভেবে ওরা ফেলে রেখে চলে যায়। প্রথমে শাহীনকে সাতক্ষীরা হাসপাতালের মর্গে নিয়ে রাখা হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন দেখে ওকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। শাহীনকে দ্রুত খুলনার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। খুলনার চিকিৎসকেরা জানান, শাহীনের মাথায় মারাত্মক জখম হয়েছে, ঢাকা মেডিকেলে নিতে হবে। শনিবারই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয় শাহীনকে।

কেশবপুর থানার মঙ্গলকোট গ্রামে শাহীনদের বাড়ি। বাবা হায়দার আলী মোড়ল একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনেছিলেন। বাড়তি রোজগারের আশায় পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে শাহীনও ভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়ত। মা খাদিজা বলেন, তাঁর ছেলে পড়াশোনায় ভালো। ছোট দুই বোনের পড়াশোনার প্রতিও নজর ছিল শাহীনের।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অসিত চন্দ্র সরকার বলেন, শাহীনের মাথার হাড় ফেটে ভেতরের দিকে ঢুকে গেছে। গতকাল ভর্তি হওয়ার পর পরই অপারেশন হয়েছে। ওর ইনজুরিটা একটু ক্রিটিক্যাল। তাই আইসিইউতে আছে। ওর চিকিৎসায় সাত সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

এঘটনায় শনিবার শাহীনের বাবা হায়দার আলী মোড়ল বাদী হয়ে পাটকেলঘাটা থানায় মামলা করেছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মো. সাজ্জাদুর রহমান বলেন, শনিবার রাত থেকে অপরাধীদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম আলোয় শাহীনকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর একজন ইতালিপ্রবাসী তাঁর কাছে শাহীনের বাবা-মাকে দেওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, যশোর থেকে ঢাকা মেডিকেলে আসা এবং অপারেশন থেকে শুরু করে চিকিৎসার সব কাজে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা–কর্মীরা সহায়তা করেছেন। তিনি পোস্টে আরও লিখেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁর বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়াও যোগাযোগ রাখছিলেন।

প্রথম ধাপে শেষ হল ৪০০ মনোনয়ন প্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
শনিবার সরকারের দুই মাসের কার্যক্রম তুলে ধরবে প্রধানমন্ত্রী …
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধে বৈশ্বিক মন্দার মাঝেও রমরমা ৫ ব্যাবসা
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
রক্তাক্ত শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক সেবা না দিয়ে রামেকে রেফার, শ…
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
‘অনভিজ্ঞ’ কিউইদের কাছেই ধরাশায়ী বাংলাদেশ
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
শুধু পাঠ্যপুস্তকে লেখা বাকি, এক দফার ঘোষক তারেক রহমান: আসিফ
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬