শিবিরের এক কর্মীকে মারধর করে পুলিশে দেয় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের কর্মীরা © সংগৃহীত
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভীর শ্বশুর জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজায় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ধাওয়া দিয়েছে। এতে জানাযায় উপস্থিত ছাত্রশিবিরের প্রায় পাঁচজনের মতো আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে নগরীর চট্টগ্রাম কলেজের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশের দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কলেজ মাঠ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জানা যায়, শুক্রবার রাতে নগরীর একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে জামায়াতে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী মারা যান। আজ দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজ মাঠ (প্যারেড ময়দানে) তার জানাজ নামাজের আয়োজন করে পরিবার। তিনি চট্টগ্রাম-১৫ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিনের শ্বশুর। নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা চৌধুরী মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হাসান বলেন, দুপুর সোয়া ১২টায় সংসদ সদস্য নদভী তাকে ফোন করে কলেজ মাঠে জানাজা নামাজের জন্য পুলিশ কমিশনারের অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানান। জানাজায় তাকে সহযোগীতা করা অনুরোধ করেন। সে সময় কলেজ অডিটোরিয়ামে ঈদ পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় বিষয়টি কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানতে পারলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা প্রতিরোধের ডাক দেয়। তারা লাঠিসোঠা ও রড নিয়ে জানাজা নামাজের দিকে এগুতে থাকে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে জানাজায় উপস্থিত কয়েকজনের শিবির নেতা-কর্মীর মাথা ফেটে যায়।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ বলেন, “জামায়াতের নেতা মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজা কলেজের মাঠে করার যে অনুমতি প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ দিয়েছে সেটা আমরা জানতাম না।
“ওই জানাজায় ইসলামী ছাত্র শিবিরের কয়েকশ নেতাকর্মী অংশ নিতে আসে। তাদের মধ্যে নগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আ স ম রায়হান, জুবায়ের ও হান্নানসহ কয়েকজন শিবির ক্যাডার ছিল। তাদের দেখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দেয়।” সবুজ বলেন, “সাধারণ মুসল্লিরা জানাজার নামাজ পড়ে চলে যান। আর আমরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ করেছি।”
চকবাজার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, যেহেতু তিনি জামায়াত নেতা। তাই জানাজায় জামায়াত-শিবিরের লোকজন এসেছিল। ছাত্রলীগ মিছিল নিয়ে মাঠের দিকে আসতে চাইলে দুই পক্ষ মারমুখি হয়ে উঠে। আমরা মাঝখানে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি।

২০১৪ সালের শুরুতে লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের শাহ মঞ্জিলে সিরাতুন্নবী মাহফিলের সমাপনী অনুষ্ঠানে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন সাংসদ নদভী। অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা দেখা না গেলেও ২০১৪ সালে দলটির মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ হন নদভী।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মুমিনুল হক চৌধুরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মো. নেজামুদ্দিন নদভীর শ্বশুর। মেয়ে রিজিয়া রেজা চৌধুরীকে ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়া হয়। সমালোচনা শুরু হলে তাকে সেই পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে ওই বছরের জুলাই মাসে রিজিয়া রেজা চৌধুরীকে মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য করা হলে দলের ভেতর থেকেই তীব্র সমালোচনা হয়।