ভাঙচুরের পর অফিস © টিডিসি ফটো
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রঝিনাইদহ–৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাপ–পিরিচ প্রতীকের সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দুটি নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে সেখান থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার নিশ্চিন্তপুর ও হেলাই গ্রামে তার নির্বাচনী অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে চারটি মোটরসাইকেলে করে আটজন দুর্বৃত্ত নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনী অফিসে অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল।
এসময় তারা অফিসের টেবিল, চেয়ারসহ আসবাবপত্র ও বাইরে থাকা তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং অফিসের ভেতর একটি ককটেল সদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করে। তবে সেটি সেখানে অবিস্ফোরিত থেকে যায়। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বস্তুটি উদ্ধার করে।
এদিকে একই সময় পৌরসভার হেলাই গ্রামে অবস্থিত অপর অফিসেও আটজনের একটি দল হামলা চালায়। সেখানে থাকা চেয়ার ভাঙচুর করে দ্রুত মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা এ সময় দুইজন হামলাকারীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন বলে জানা গেছে।
হেলাই গ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলাম জানান, রাত ৮টার দিকে তিনি মতিয়ার ও মোশাররফসহ তিনজন অফিসে বসেছিলেন। হঠাৎ চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা আটজন দুর্বৃত্ত অফিসে ভাঙচুর চালায়। এদের মধ্যে ফয়লা গ্রামের শাওন ও মুন্নাকে তিনি চিনতে পেরেছেন।
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানান, ঘটনার সময় তিনি ফুরসন্দি ও ঘোড়শাল ইউনিয়নে ছিলেন। পরে জানতে পারেন, নিশ্চিন্তপুর ও হেলাই গ্রামের দুটি অফিসে হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। স্থানীয়রা হামলাকারীদের শনাক্ত করেছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত হবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, তার সমর্থকরা সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে রয়েছে।
এ ঘটনার বিষয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে রাকিব হোসেন নামে এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তিনি নিজেকে প্রার্থীর পিএস পরিচয় দিয়ে বলেন, প্রার্থী ব্যস্ত আছেন, ১০ মিনিট পর ফোন করলে কথা বলা যাবে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের দুটি নির্বাচনী অফিসে কেউ না থাকায় দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর করেছে। একটি অফিস থেকে কালো টেপে মোড়ানো জর্দার কৌটা উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি ককটেল কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।