চার জেলায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘কাঁকন বাহিনী’

০১ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৩৫ PM , আপডেট: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৩৬ PM
বাহিনীর প্রধান মো. রোকনুজ্জামান কাঁকন

বাহিনীর প্রধান মো. রোকনুজ্জামান কাঁকন © সংগৃহীত

পদ্মা নদীর চরজুড়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে 'কাঁকন বাহিনী'। রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার বিস্তীর্ণ চরে প্রায় এক যুগ ধরে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে এই সশস্ত্র চক্র। দখল, চাঁদাবাজি, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী হামলায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে অন্তত চারটি জেলার পাঁচ উপজেলার মানুষ।

গত সোমবার রাজশাহীর বাঘা এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাঁকন বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত ও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, নিহত ব্যক্তি কাঁকন বাহিনীর সদস্য ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাহিনীর প্রধান মো. রোকনুজ্জামান কাঁকন (বয়স আনুমানিক ৫০–৫৫) কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার রায়চা গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় প্রকৌশলী হলেও ২০০৭ সালে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে স্থানীয় রাজনীতির আশ্রয়ে তিনি বালুমহাল ব্যবসায় যুক্ত হন। ধীরে ধীরে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণের লড়াই থেকেই গড়ে তোলেন নিজের সশস্ত্র বাহিনী। বর্তমানে তাঁর দলে শতাধিক সদস্য রয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ১০ জন সর্বক্ষণ সশস্ত্র অবস্থায় তাঁর পাহারায় থাকে।

কাঁকন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পদ্মার দুর্গম চরের একাধিক বালুমহাল। বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়, নদীপথে নৌযান আটকে রাখা এবং মাঝপদ্মায় বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়া তাঁদের দৈনন্দিন কাজ। চাঁদা না দিলে হামলা ও গুলিবর্ষণ হয় নিয়মিত। স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা বলেন, 'চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেয়, মাঝনদীতে নৌকা আটকে রাখে।'

চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ জানায়, বছরের পর বছর তারা ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না। পদ্মার চরের কৃষক, জেলে ও বালু শ্রমিকদের মুখে একটাই কথা— 'কাঁকন বাহিনী মানেই ভয়।'

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশ একাধিক অভিযান চালিয়ে কাঁকন বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। গত জুলাইয়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে তিনটি বিদেশি অস্ত্র, গুলি, নগদ টাকা ও চাঁদার তালিকা উদ্ধার হয়। তবে কাঁকন নিজে এখনো অধরা।

রাজশাহীর বাঘা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মণ্ডল বলেন, 'পদ্মার চরে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষেও তদন্ত চলছে।'

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, কাঁকনের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে অভিযোগকারীরা ভয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতে চান না। রাজশাহী ও খুলনা রেঞ্জ পুলিশের যৌথসভায় সম্প্রতি এই বাহিনীর কার্যক্রম রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নাটোরের এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) খন্দকার মো. শামীম হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিরা এ বিষয়ে কাজ করছেন।

উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটে শিক্ষাসফরে গেল এনএসইউ’র মার্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি আবেদন দুইদিনে ৭ হাজার ছাড়াল
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
এইচএসসি পাসেই চাকরি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে, আবেদন ৩ সেপ্টেম্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন এলজিআরডি মন্ত্রী  
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
না ফেরার দেশে ঢাবি ছাত্র হাবিবুর রহমান শুভ
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬