স্বর্ণপদক পাওয়া ছাত্রের চবি শিক্ষক হওয়া ঠেকাতে অপহরণ!

০১ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪৯ AM

© ফাইল ফটো

বিভাগীয় পরীক্ষায় দারুণ মেধার স্বাক্ষর রেখে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পেয়েছিলেন। স্বপ্ন শিক্ষক হবেন। সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার পর মৌখিক পরীক্ষা দিতেও গিয়েছিলেন। কিন্তু স্বপ্নটা অধরাই থেকে গেল। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মৌখিক পরীক্ষার আগেই তাকে অপহরণ করার কারণে তিনি পরীক্ষায়ই অংশ নিতে পারেননি!

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মেধাবী ছাত্র এমদাদুল হকের সঙ্গে এমনটি ঘটনো হয়েছে। স্নাতকে সিজিপিএ-৪’র মধ্যে ৩.৮৮ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৯৬ পেয়ে প্রথম হয়েছিলেন তিনি। এ জন্য তাকে দেওয়া হয় ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’। অথচ তাকেই শিক্ষক হওয়া ঠেকাতে এই অবৈধ পন্থা বেছে নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ মার্চ বুধবার নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রামের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা করেছেন এমদাদুল হক। এছাড়া পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য উপাচার্য বরাবর আবেদন করেছেন তিনি। তবে কি কারণে হামলা হয়েছে তা জানেন না বলে জানিয়েছেন ইমদাদুল।

উপাচার্য কার্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ছিল ২৭ মার্চ। দুটি পদের বিপরীতে ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠেছে,  মৌখিক পরীক্ষা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁকে ‘অপহরণ’ করা হয়। অভিযোগ ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। পরে দিনভর তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়। সবশেষ শিবির আখ্যা দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, এমদাদুলকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ারের (সিএফসি) নেতা-কর্মীরা জড়িত। এটি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসম্পাদক শরীফ উদ্দীন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, ‘এমদাদুল ২০১২ সালে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে শিবিরের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই কারণেই তাকে মারধর করা হয়েছে। এসময় তিনিসহ বেশ কয়েকজন জুনিয়র কর্মীও ছিলো।’

তবে এমদাদুল হক ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় বলে জানিয়েছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরীয়া জানান। তার গবেষণা সহযোগী ছিলেন এমদাদুল। তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, ‘কেউ হয়তো তাঁকে চরম প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে একাজ করেছে।’

উপাচার্যকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে এমদাদুল বলেছেন, মৌখিক পরীক্ষার দিন উপাচার্য কার্যালয়ে যেতে প্রশাসনিক ভবনের লিফটের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আনোয়ার হোসেন, আসিফ মাহমুদ, মোকসেদ আলী, জাহিদুল হাসান, রফিক ইসলাম, আসির উদ্দিন, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে ‘অপহরণ’ করে।

পরে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নিয়ে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। এতে রাজি না হওয়ায় মারধর করে মোবাইল ও পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাগোডার সামনে নিয়ে আবার মারধর করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিবির আখ্যা দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেন। অবশ্য পুলিশ পরে তাঁকে ছেড়ে দেয়।

এ ব্যাপারে উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, ‘সাক্ষাৎকার পুনরায় নেওয়া সম্ভব নয়। তবে পরেরবার বিজ্ঞপ্তি দিলে ফের আবেদন করতে পারবেন।’ এছাড়া লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ফেনীর সাবেক তিন এমপিসহ ১৫৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে ছাত্রদলের সাবেক নেতার গাড়…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নোবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্র…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইইউবি ও দৃষ্টি চট্টগ্রাম আয়োজিত ইংরেজি বিতর্ক প্রতিযোগিত…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিইউবিটির রিসার্চ উইক ২০২৬: উদ্ভাবনা ও গবেষণায় উৎকর্ষের সম্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভাঙা ও পরিত্যক্ত টেবিলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়েছে কুবিতে ভর্…
  • ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬