ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলার জন টার্নার © সংগৃহীত
মাত্র ২৫ বছর বয়সেই সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন ইংল্যান্ড ও হ্যাম্পশায়ারের ফাস্ট বোলার জন টার্নার। একের পর এক চোট, বিশেষ করে পিঠের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের হয়ে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন টার্নার। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলেন তিনি। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলেও ডাক পেয়েছিলেন, তবে চোটের কারণে সেবার খেলা হয়নি তার।
অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে টার্নার বলেন, ‘আমার নেওয়া অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি এটি। পিঠের স্ট্রেস ফ্র্যাকচার আমাকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মাঠের বাইরে রেখেছে। চোটের পুরনো রেকর্ড দেখে স্বাভাবিকভাবেই আমাকে ক্রিকেটার হিসেবে এবং খেলার বাইরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মনে হলো, জীবনের নতুন চ্যালেঞ্জের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।’
২০২১ সালে হ্যাম্পশায়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় টার্নারের। ওয়ানডে কাপের সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালাস্টার কুককে আউট করে প্রথম উইকেট নেন তিনি। হ্যাম্পশায়ারের হয়ে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে তার শিকার ৯৭ উইকেট।
২০২৩ সালের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন টার্নার। ওই আসরে ১১.৭৬ গড় ও ৬.৬৭ ইকোনমি রেটে ২১ উইকেট নেন তিনি। এর আগে নিউজিল্যান্ড সফরে ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়েও খেলেছিলেন এই পেসার। দ্য হান্ড্রেডে ট্রেন্ট রকেটসের হয়েও খেলেছেন তিনি।
ক্রিকেটের পাশাপাশি অর্থনীতিতে স্নাতকও সম্পন্ন করেছেন টার্নার। অবসরের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পেশাদার ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা সবসময়ই আমার স্বপ্ন ছিল। হ্যাম্পশায়ার ও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে পারা মানে আমার সেই শৈশবের স্বপ্নকে সত্যি হতে দেখা।’
হ্যাম্পশায়ারের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট জাইলস হোয়াইট টার্নারের অবসরে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘জন অত্যন্ত অসাধারণ প্রতিভাবান একজন খেলোয়াড়। পেশাদার ক্রিকেটে তার এই যাত্রার এভাবে ইতি ঘটায় হ্যাম্পশায়ার পরিবার গভীরভাবে ব্যথিত। গত পাঁচ বছর ধরে চারবার টি-টোয়েন্টি ফাইনালস ডে-তে ওঠা, কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ডিভিশনের শীর্ষ লড়াইয়ে থাকা এবং দুবার ওয়ানডে কাপের ফাইনালে পৌঁছানোর মতো হ্যাম্পশায়ারের সাফল্যমণ্ডিত সময়ে সে বড় ভূমিকা রেখেছে।’