পারভেজ হোসেন ইমন © সংগৃহীত
পারভেজ হোসেন ইমনের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে টাইগার ওপেনারের দেখানো পথেই হেঁটে দুর্দান্ত শুরু করেছিলেন আমিরাতের অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সফরকারীদের রীতিমত অস্বস্তিতে রেখেছিলেন। কিন্তু তার বিদায়ের পর অন্যরা স্কোরশিট সেভাবে সচল রাখতে পারেননি। এরপর ডেথ ওভারে পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ বলে স্বাগতিকদের ১৬৪ রানে গুটিয়ে ২৭ রানের প্রত্যাশিত এক জয়ই ছিনিয়ে নেয় লাল-সবুজেরা। এই জয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গেল লিটন দাসের দল।
শনিবার (১৭ মে) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯১ রান জড়ো করে বাংলাদেশ। জবাবে ১৬৪ রানে থেমেছে স্বাগতিকদের ইনিংস।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে স্বাগতিকদের দুর্দান্ত শুরু এনে দেন অধিনায়ক মুহাম্মদ ওয়াসিম। তার মারকাটারি ব্যাটিংয়ে ভর করে ১১ ওভারেই ১'শ পেয়ে যায় আমিরাত। কিন্তু ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৪ রান করে থামেন তিনি।
দলীয় অধিনায়ক ফেরার পর রাহুল চোপড়া ও আসিফ খান জয়ের আশা জিইয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু রাহুলের ২২ বলে ৩৫ এবং আসিফের ২১ বলে ৪২ রান জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়ে উঠেনি। আর বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেননি।
বাংলাদেশের পক্ষে হাসান মাহমুদ তিনটি, তানজিম হাসান সাকিব, মেহেদি হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান দুটি করে উইকেট নেন।
এই জয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আগামী ১৯ মে একই ভেন্যুতে দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
এর আগে, টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরের পথ ধরেন তানজিদ হাসান তামিম। মতিউল্লাহ খানের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন এই ওপেনার। ফেরার আগে ৯ বলে সমান এক চার ও ছক্কায় তার ব্যাট থেকে ১০ রান এসেছে।
তিনে নেমে টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক লিটন দাস-ও সুবিধা করতে পারেননি। মুহাম্মদ জাওয়াদউল্লাহর দারুণ এক ইয়র্কারে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে দলীয় ৪৯ রানে ফেরেন উইকেটকিপার এই ব্যাটার। নেতৃত্বের অভিষেকে ৮ বলে ১১ রানে থেমেছে তার ইনিংস।
জোড়া উইকেট হারালেও দলীয় স্কোরশিট ঠিকই সচল রেখেছিলেন আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১০ ওভারেই একশ ছাড়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহ। অন্যপ্রান্তে বড় ইনিংসের আভাস দিলেও বেশিক্ষণ ক্রিজে থিতু হতে পারেননি তাওহীদ হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে ইমনের সঙ্গে ৫৮ রানের জুটি গড়ে ব্যক্তিগত ২০ রানে ফেরেন মিডল-অর্ডার এই ব্যাটার। এরপর শেখ মেহেদীও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি।
তবে সতীর্থদের বিদায়ে একার লড়াই জিইয়ে রাখেন ইমন। চার-ছক্কার ফোয়ারা ছুটিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই ওপেনার। তামিম ইকবালের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ৯ বছর পর ৫৩ বলে তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন। আর ইনিংসের শেষ ওভারে জাওয়াদউল্লাহর বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৫ চার ও ৯ ছক্কায় ৫৪ বলে ১০০ রান করেছেন ইমন। যাওয়া-আসার প্রতিযোগিতায় বাকিরা সেভাবে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেননি।
আমিরাতের বোলারদের মধ্যে ৪ ওভার বল করে ২১ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন জাওয়াদউল্লাহ।