ডেইলি ক্যাম্পাসকে হামলার মুহূর্তের বর্ণনা
বাংলাদেশ থেকে রিয়াদ এয়ারে করে যাওয়ার সময় ইনসেটে নিখোঁজ বদরপুরী © টিডিসি সম্পাদিত
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। হামলার সময় রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার জন্য বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জের জামিয়া আরাবিয়া রাবিউল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জনের একটি দল। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। একজনের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া দলের একজনের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিএসিএ) এক বিবৃতিতে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, শনিবার রাতে চালানো হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন নাগরিক, বাংলাদেশের দুজন, যুক্তরাষ্ট্রের একজন, মিসরের একজন, জর্ডানের একজন, সিরিয়ার একজন, ফিলিস্তিনের একজন এবং সুদানের একজন রয়েছেন। হামলার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।
জানা যায়, ওমরা পালন করতে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া রাবিউল উলুম মাদ্রাসা থেকে আল মক্কা ট্রাভেলসের মাধ্যমে ৪৫ জনের একটি দল সৌদি আরবে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজন মক্কায় পৌঁছেছেন। বাকিরা রিয়াদ থেকে মক্কায় যাওয়ার জন্য বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময়ই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় ওই দলের প্রায় ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের হাত-পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে, এমনকি একজনের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আহত ব্যক্তিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যদিও একজনের সন্ধান এখনও পায়নি তারা।
এ বিষয়ে আল মক্কা ট্রাভেলসের প্রোপ্রাইটর মুফতি খোরশেদ বলেন, আমাদের কাফেলায় ৪৫ জন হাজি ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৪ জনের খবর পাওয়া গেছে। ওনাদের মধ্যে আটজন মক্কায় পৌঁছেছেন, বাকিরা বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন। নয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে আমাদের কাফেলার মুফতি নাসরুল্লাহ বদরপুরীর কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আহতের মধ্যে মাওলানা সাঈদ সাহেবের একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ছাড়া কয়েকজনের পায়ে আঘাত লেগেছে। মক্কায় পৌঁছানো আটজনের মধ্যে চার-পাঁচজনের পায়ে হালকা ব্যথা রয়েছে। অন্যরাও কমবেশি আহত হয়েছেন। যাদের গুরুতর সমস্যা রয়েছে, তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুফতি খোরশেদ বলেন, আমাদের ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল রিয়াদ থেকে জেদ্দা। ফ্লাইটটি ছাড়ার নির্ধারিত সময় ছিল ৩টা ২০ মিনিট। যাত্রীরা বোর্ডিং কার্ড নেওয়ার জন্য সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ কেউ বোর্ডিং কার্ড নিয়ে নিয়েছিলেন, আবার কেউ কার্ড নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এমন অবস্থায় ওই জায়গায় মিসাইল হামলা হয়।
তিনি বলেন, হামলার সময় কাছাকাছি জায়গায় যারা ছিলেন, তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যারা দূরে ছিলেন, তাদের অনেকে বিভিন্নভাবে আঘাত পেয়েছেন। আমাদের দলের একজন গুরুতর আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। বাকি ৩৫ জনের অবস্থা ভালো। তবে তাদের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ জনের হাত-পা ও মাথায় হালকা আঘাত পেয়েছে। সবাই একই মাদ্রাসা থেকে এসেছিলেন।
মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি ফজলে বিন মুক্তার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের ৪৫ জনের দলে ৩৫ থেকে ৩৭ জন ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক। এ ছাড়া এলাকার দুই-তিনজন মুরুব্বি এবং চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। সব মিলিয়ে আমরা ৪৫ জন ছিলাম। আমরা এখন একটি বিপর্যয়কর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। সবাই টেনশনে আছি। আমাদের দলের কয়েকজন রাতে রিয়াদ থেকে মক্কায় রওনা হয়ে পৌঁছেছেন। রিয়াদে ভয়াবহ হামলার ঘটনার কারণে আমরা মক্কায় অবস্থান করছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দলের বেশির ভাগই বর্তমানে রিয়াদে আছেন এবং আলহামদুলিল্লাহ, তারা ভালো আছেন। তবে কেউ কেউ হাতে-পায়ে ছোটখাটো আঘাত পেয়েছেন। নয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের হাত-পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ভয়াবহ জখম হয়েছে। তারা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। হামলার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করে ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে সৌদি জোট। সম্প্রতি ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত বেড়েছে। দেশটির বেশির ভাগ এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে হামলার পর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দেশটিতে ভ্রমণরত সৌদি নাগরিকদের ভ্রমণসূচিতে বিঘ্ন ঘটলে স্থানীয় দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দিয়েছে।
সর্বশেষ হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকেরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যোগ দিতেও পারি। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব। আমরা এইমাত্র সর্বশেষ হামলার খবর পেয়েছি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিই।’