সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস আজ

১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩২ AM , আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ AM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি সম্পাদিত

আজ ১৯ জুন, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নির্মূলের আন্তর্জাতিক দিবস (ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স ইন কনফ্লিক্ট)। যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতের সময় সংঘটিত ধর্ষণ, যৌন দাসত্ব, জোরপূর্বক গর্ভধারণ, জোরপূর্বক বিয়ে এবং অন্যান্য যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর এ দিবসটি পালন করা হয়।

২০১৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে ১৯ জুনকে এ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০৮ সালের ১৯ জুন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৮২০ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার স্মরণে এ তারিখটি নির্ধারন করা হয়। ওই প্রস্তাবে প্রথমবারের মতো যুদ্ধের কৌশল হিসেবে যৌন সহিংসতাকে নিন্দা জানানো হয় এবং এটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতে দেখা গেছে—নারী, পুরুষ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন দাসত্ব, জোরপূর্বক বিয়ে ও নির্যাতনকে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে যৌন সহিংসতা কেবল ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়; এটি একটি জনগোষ্ঠীকে ভীতসন্ত্রস্ত করা, সামাজিক বন্ধন ধ্বংস করা এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ক্ষত তৈরি করার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা সামাজিক কলঙ্ক, ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে অভিযোগ পর্যন্ত করতে পারে না। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত-সংশ্লিষ্ট প্রতি একটি নথিভুক্ত ধর্ষণের বিপরীতে আরও ১০ থেকে ২০টি ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যেতে পারে।

সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা নির্মূলের লক্ষ্যে জাতিসংঘ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন, সরকার এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা আলোচনা সভা, সেমিনার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও সংহতি প্রকাশের আয়োজন করে থাকে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জোরালো করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা বন্ধে সচেতনতা ও জবাবদিহির দাবি জোরালো হচ্ছে, তখন জাতিসংঘও বিষয়টিকে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। গত বছর দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছিলেন, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতা হলো যুদ্ধের এক ভয়াবহ কৌশল, যার ক্ষত বন্দুকের গুলি থেমে যাওয়ার পরও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহন করতে হয়। এ কারণে শুধু ভুক্তভোগীদের সহায়তা নয়, ভবিষ্যতে এমন অপরাধ প্রতিরোধেও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন : যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নারী, শিশু ও অনেক ক্ষেত্রে পুরুষরাও যৌন সহিংসতার শিকার হন। দীর্ঘদিন ধরে এসব অপরাধ যথাযথ গুরুত্ব না পেলেও বসনিয়া যুদ্ধ, রুয়ান্ডা গণহত্যা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইরাক, সিরিয়া ও ইউক্রেনের বিভিন্ন সংঘাতে সংঘটিত যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ এ ধরনের অপরাধকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং বিষয়টি নিয়ে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই দিবস চালু করে।

প্রসঙ্গত, এ বছরের প্রতিপাদ্যে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার দীর্ঘমেয়াদি ও প্রজন্মান্তরের প্রভাবের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন, মানসিক সহায়তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে সহিংসতার চক্র ভাঙার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

গভীর রাতে ঢাবির হলের ৯ তলা থেকে ‘পড়ে যাওয়া’ ছাত্রকে ঢামেকে …
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাবি সাংবাদিকদের ছাত্রদলের হামলা, তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ …
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের গ্র…
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিক পেটানোকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ’ বলল কেন্দ্রীয়…
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিকদের হামলা, শিবিরের ওপর দায় দিলেন রাবি ছাত্রদল সভাপতি
  • ০৫ অক্টোবর ২০২৬
বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত প্রীতম-শেহতাজের
  • ০৪ অক্টোবর ২০২৬