‘সমলিঙ্গের বিয়ের আইনি স্বীকৃতি’র দাবিতে শাহবাগে অবস্থান সমকামীদের, পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা

১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২০ PM , আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৭ PM
অনুমতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা

অনুমতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা © টিডিসি সম্পাদিত

রাজধানীর শাহবাগে সমলিঙ্গের বিয়ের আইনি স্বীকৃতির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একদল সমকামী। এ সময় পূর্বানুমতি ছাড়া এ কর্মসূচি পালন করায় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, প্রতি শুক্রবার শাহবাগ এলাকায় জড়ো হন সমকামীরা—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জড়ো হতে গেলে সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হলে তাদের ওপর তার চড়াও হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলাও চালানো হয়। পরে পুলিশ অভিযান চালায় এবং ৮ জনকে আটক করে। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং একজন সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাদের দণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে, আজ বিকেল ব্যানার নিয়ে অবস্থান নিলে পুলিশ এসে তাদের কাছে সমাবেশের অনুমতির কাগজ দেখতে চায়। এ সময় পুলিশের এক কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, "আপনারা এই যে ব্যানার বানিয়েছেন, এখানে যে লোক সমাগম হচ্ছে, এর জন্য প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। আইনগতভাবে আপনাদের সাপোর্ট দেওয়ার জন্য পূর্বেই আমাদের অবগত করা বা থানায় চিঠি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। একটা রাস্তায় বসে পাবলিক জমায়েত করতে হলে ইনফর্ম করতে হয়।"

অবস্থানরত সমকামীরা এটিকে তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করেন। পুলিশের অনুমতির দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নাঈম উদ্দিন বলেন, "অনুমতির ব্যাপার তো না, সে তার মত প্রকাশ করবে। তাদের যে গণতান্ত্রিক অধিকার, তারা এখানে তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলবে। এখানে একটা মানুষ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চাইলে দাঁড়াতেই পারে।"

একপর্যায়ে পুলিশ সেখানে একটি সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "আমাদের কাছে গোয়েন্দা ইন্টেল আছে। এখন কি আমরা হামলা হওয়ার জন্য বসে থাকব, না হামলা হওয়ার আগেই আপনাদের নিরাপত্তা দেব। আল্লাহ না করুক, প্রতিপক্ষ চলে আসুক এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়ে যাক— তখন আমরা বিব্রত হব। এই বিব্রতকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় এবং আপনারাও সেফ থাকেন, সেই কারণেই আপনাদের আমরা অগ্রিম বলছি আপনারা চলে যান। 

পুলিশের এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, "আপনাদের কনসার্নটা আমরা বুঝতে পারছি এবং আপনারাও চাইছেন না এরকম একটা কনফ্লিক্ট হোক। কিন্তু আমাদের জায়গা থেকে এটা বলা হয়েছে যে, আমরা মনে করি এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক জায়গা।"

দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই তর্ক-বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি যুক্তির জেরে ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

চব্বিশ বেহাতের মাস্টারমাইন্ড ‘অনেকগুলো ছায়া মুজিব’: জেডিপি
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
সিনিয়র এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে রূপায়ণ গ্রুপ, কর্মস্থল ঢাকা
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
রাতে হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, প্রথম ফ্লাইটে য…
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
অং সান সু চি সহ ৪ হাজার রাজবন্দির সাজা কমাল জান্তা সরকার
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬
শেষ মুহুর্তে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য করণীয়
  • ১৭ এপ্রিল ২০২৬