সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পড়া শুরু, দিতে হবে ১৮ অ্যাসাইনমেন্ট

০২ নভেম্বর ২০২০, ১১:০০ AM
করোনার কারণে বাসায় বসে অনলাইনে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা

করোনার কারণে বাসায় বসে অনলাইনে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা © ফাইল ফটো

দেশে করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির কারণে এর ক্ষতি পোষাতে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে রোববার থেকে শুরু হয় মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এই পাঠদান শুরুর পর সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এতে ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠদান শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই থেকে ৩০ কার্যদিসের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিলেবাস। এর মাধ্যমে পাঠের আলোকে বাসায় বসে শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ (কাজ) করে মূল্যায়নের জন্য সেগুলো শিক্ষকের কাছে জমা দেবে।

এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, এর আগে সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার লক্ষ্যে এনসিটিবি ৭৩, ৫০ এবং ৩০টি কার্যদিবস ধরে তিনটি পরিকল্পনায় ডিসেম্বরে লেখাপড়া শেষ করে ১ জানুয়ারি নতুন বছরের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর করার মতো পাঠ নির্ধারিত থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করেছে। তবে শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় শিখনের দিক সমুন্নত রাখতে অ্যাসাইনমেন্ট প্রবর্তন করা হয়েছে। এজন্য উল্লিখিত তিন বিকল্পের মধ্যে শেষেরটিই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের শ্রেণির কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাদের শ্রেণি ও বয়স অনুযায়ী শিখন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা দেয়ার জন্যই এই সিলেবাস তৈরির মূল উদ্দেশ্য। মাধ্যমিকের পাশাপাশি মাদ্রাসা এবং কারিগরি স্তরের জন্যও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অধিদফতরগুলো তা বাস্তবায়ন করছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) শনিবার বিষয়ভিত্তিক ও শ্রেণি অনুযায়ী পাঠপরিকল্পনা প্রকাশ করে। এতে শিক্ষকের জন্য ৭টি নির্দেশনা আছে। সেগুলো হচ্ছে শিক্ষার্থীকে প্রতি সপ্তাহে ৩টি করে অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে; নির্ধারিত বিষয়ের প্রস্তাবিত অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেয়া, মূল্যায়ন, পরীক্ষকের মন্তব্যসহ শিক্ষার্থীকে দেখানো এবং পরে প্রতিষ্ঠানে সেটি সংরক্ষণ করার কাজ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে; এই কার্যক্রমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; তারা সাদা কাগজে লিখে জমা দেবে; অ্যাসাইনমেন্টের আওতায় ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, সৃজনশীল প্রশ্ন, প্রতিবেদন প্রণয়ন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত আছে; অভিভাবক বা তার প্রতিনিধি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতি সপ্তাহে একদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করবেন এবং জমা দেবেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম গোলাম ফারুক বলেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। সেটির আলোকে তারা সরকারের এই শিক্ষাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন।

এনসিটিবির সদস্য অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরির ক্ষেত্রে তিনটি দিক বিবেচনা করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, যেসব পাঠ আগের শ্রেণিতে শিক্ষার্থী পড়ে এবং পরের শ্রেণির পাঠের জন্য দরকার নেই তা বাদ দেয়া হয়েছে। যে পাঠ পরের শ্রেণিতে পাবে কিন্তু শিক্ষার্থীর জানা দরকার তা রাখা হয়েছে। আর যা পরে দরকার আগে পড়েনি তাও রাখা হয়েছে। তবে শেষেরটির ক্ষেত্রে শিক্ষকের প্রতি নির্দেশনা থাকবে যে, পরের শ্রেণিতে ধারাবাহিকভাবে পড়ানোর আগে আগের ক্লাসের পাঠের ওপর আগামী বছর সংক্ষিপ্ত পূর্ব-ধারণা দেবেন।

জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটিতে ১৮টি করে অ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে বাংলা, কৃষি/গার্হস্থ্য, ধর্ম ও নৈতিকতা, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ে ২টি, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান বিষয়ে ৩টি এবং আইসিটিতে একটি অ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে। নবম শ্রেণিতে বাংলায় ২টি, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান বা বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, পদার্থ, ভূগোল, হিসাববিজ্ঞান, রসায়ন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ব্যবসায় উদ্যোগে ৩টি করে এবং আইসিটিতে ১টি অ্যাসাইন করতে হবে শিক্ষার্থীদেরকে। মাউশির ওয়েবসাইটে (http://www.dshe.gov.bd) বিস্তারিত সিলেবাস পাওয়া যাচ্ছে।

এর আগে মাউশি থেকে এ ব্যাপারে একদফা নির্দেশনা প্রকাশ করা করেছে। এতে বলা হয়, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাঠদান এবং স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইন শ্রেণি পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। 

এতে বলা হয়, এ মূল্যায়ন যেন তাদের ওপর কোনো মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেরাও যেন তাদের পাঠ অগ্রগতি ও দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে। এতে মোট আটটি নির্দেশনা দিয়েছিল মাউশি। এগুলোর মধ্যে আছে- অ্যাসাইনমেন্ট প্রদান/গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান শ্রেণিভিত্তিক কর্মসূচি নির্ধারণ এবং আলাদাভাবে প্রদান/গ্রহণের ব্যবস্থা করবেন।

এতে আরও বলা হয়, অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দুর্বল দিক ধরে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে সেগুলোর ওপর বিশেষ নজর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত শিখন ফল অর্জনের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা শিক্ষকদের মূল্যায়নসহ অ্যাসাইনমেন্টগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে স্থানান্তরিত শিক্ষার্থীরা নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ/জমা প্রদান করতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীকে পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে বাড়ির কাজ ও অ্যাসাইনমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঠ্যসূচি ও মূল্যায়ন টুলস তৈরির ক্ষেত্রে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ সপ্তাহ পাওয়া যাবে। কোন সপ্তাহে শিক্ষার্থীর কী মূল্যায়ন করা হবে, তার নির্দেশনা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে দেওয়া হয়েছে। প্রথম সপ্তাহে মূল্যায়নের পর ২য় সপ্তাহের প্রস্তুতি নিতে হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে ৮ সপ্তাহ শেষে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন কার্যক্রম শেষ হবে।

 

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনবল নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে 
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
হৃদরোগীদের পুনর্বাসনে দেশে যুক্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মডেল
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
শিশু ধর্ষণ মামলায় শিক্ষকের যাবজ্জীবন
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
একসঙ্গে স্কুল-কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে জমজ দু…
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বরিশালে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
বরিশালে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭৩০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন
  • ০৫ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950