আবুজর গিফারী কলেজ
আবুজর গিফারী কলেজ © ফাইল ছবি
কোনো ধরনের ব্যাখ্যা ছাড়াই গত মার্চে রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত আবুজর গিফারী কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। তার স্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াককে দায়িত্বে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে সম্প্রতি তাকে সভাপতির পদে স্বপদে বহাল রাখতে নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি অধ্যাপক ড. আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াকের মনোনয়ন তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহাম্মদ হাইকোর্টের এই নির্দেশনা মানছেন না। গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) হাইকোর্টের এই নির্দেশনার পরদিন গতকাল বুধবার (২৪ জুন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী কলেজের পরিচালনা পর্ষদের পুনর্নির্ধারিত সভা করতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদ আহাম্মদ সেটি বাতিল করে দেন পূর্বের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদের নির্দেশে, যা আদালত অবমাননার শামিল। এছাড়া এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নেতৃত্বে বহিরাগতরা কলেজে মব সৃষ্টি করছেন এবং শিক্ষকদের ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে এক চিঠিতে অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীকে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলী মোহাম্মদ কাওসারকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়ন দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। গভর্নিং বডির মেয়াদ দুই বছর বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। তবে একবছর পর এসে গত এপ্রিলে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য পরিবর্তন করে দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এতে সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীর স্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু নাসের আহমেদ ইশতিয়াককে এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য আলী মোহাম্মদ কাওসারের স্থলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
জানতে চাইলে অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমি সততা ও নিষ্ঠার সাথে কলেজের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছিলাম। তাছাড়া কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেইনি। অথচ আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই অপসারণ করা হয়েছে। পরে আমি হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে সম্প্রতি তাকে সভাপতির পদে স্বপদে বহাল রাখতে নির্দেশনা দেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদ আহাম্মদ এটি মানছেন না, যা আদালত অবমাননার শামিল।
জানতে চাইলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদ আহাম্মদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীর বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা পেয়েছি। এখন সেটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কলেজে নির্দেশনার বিষয়ে করার কিছু নেই। পরবর্তীতে গভর্নিং বডির সভাপতির বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে সেটি পালন করা হবে।
অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীর পক্ষে হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নুর-উল-মতিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, কোনো সুস্পষ্ট কারণ কিংবা ব্যাখ্যা ছাড়াই কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন চৌধুরীকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে উনি সংক্ষুব্ধ হয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে তাকে বহাল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে তিনি এখন থেকে তার এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।