ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া মাইক্রোবাস © সংগৃহীত
গাইবান্ধার দুইটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা আঞ্চলিক মহাসড়কের মাঝিপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসচালক নিহত হন। অপরদিকে সাদুল্লাপুরে ফাতেমা কোচের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজের হিসাবরক্ষক প্রাণ হারান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলার মাঝিপাড়া এলাকায় সকাল ১০টার দিকে গাইবান্ধা থেকে ঢাকাগামী আলহামরা পরিবহনের একটি বাস পথিমধ্যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ওষুধ কোম্পানির দ্রুতগামী মাইক্রোবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ফসলি জমিতে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালকের মৃত্যু হয়। আহত হন বাস ও মাইক্রোবাসের অন্তত ১০ যাত্রী। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা হাসপাতাল ও পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে এবং মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে পুলিশ।
অপ রদিকে সকাল ৯টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলার পশ্চিম পাড়া মার্কাস মসজিদের সামনে ঢাকাগামী ফাতেমা কোচের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজের হিসাবরক্ষক গোলাম রব্বানী নিহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মেট্রো-ব-১২-১৯৩২ নম্বরের ফাতেমা কোচটি ঢাকা যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটির সঙ্গে বাসটির ক্রসিং হচ্ছিল। রাস্তার পাশে জমে থাকা কাদাপানিতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিছলে গেলে তা ফাতেমা কোচের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী গোলাম রব্বানীর মাথা থেতলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত গোলাম রব্বানী সাদুল্লাপুর সরকারি কলেজের হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
এ সময় মোটরসাইকেলের আরোহী এক প্রতিবন্ধী শিশুও ছিটকে পড়ে আহত হয়। স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে বাসটি ভাঙচুরের চেষ্টা করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং দুর্ঘটনায় জড়িত ফাতেমা কোচটি হেফাজতে নেয়। বাসটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গাইবান্ধা অঞ্চলে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।