শার্শায় বেড়েছে পাটের আবাদ, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

টিডিসি সম্পাদিত

টিডিসি সম্পাদিত © টিডিসি

বছর কয়েক আগেও যে জমিতে অন্য ফসলের চাষ হতো, এবার সেসব জমির অনেকটাই দখল করেছে পাট। সবুজ পাটগাছ এখন শার্শার মাঠজুড়ে। কোথাও পাট কাটা হচ্ছে, কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ। আবার কোথাও কৃষকেরা পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের সম্ভাবনায় এ বছর পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। তবে উৎপাদন খরচ বাড়ায় বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ৫ হাজার হেক্টর, অর্থাৎ এক বছরে পাটের আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর।

উপজেলার দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ বছর আবহাওয়াও পাটের অনুকূলে ছিল। ফলে অনেক এলাকায় পাটের গাছ হয়েছে বেশ ভালো। কৃষকদের আশা, বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত পাট পাওয়া যেতে পারে। 

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশি ও উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ পাওয়ায় অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি পাট ও পাটখড়ির বাজারে চাহিদা থাকায় এ ফসলকে লাভজনক মনে করছেন তারা।

তবে ভালো ফলনের পরও কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে উৎপাদন খরচ নিয়ে। পাট কাটা, আঁটি বাঁধা ও জাগ দেওয়ার জন্য শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। বেড়েছে জ্বালানি ও পরিবহন খরচও। ফলে বাজারে প্রত্যাশিত দাম না মিললে লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

শার্শার বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম বলেন, পাটের ফলন এবার ভালো হয়েছে। কিন্তু পাট কাটতে ও জাগ দিতে শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। তেলের দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে ভালো দাম না পেলে কৃষকের লাভ থাকবে না।

আরেক পাটচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে পাট চাষ করি। ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত অনেক খরচ হয়। পাটের ন্যায্য দাম না পেলে কৃষক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে পাটসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক।’

আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ফল প্রকাশ আজ

এদিকে পাটের সঙ্গে পাটখড়ি থেকেও বাড়তি আয়ের সুযোগ রয়েছে কৃষকদের। স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাটখড়ির চাহিদা থাকায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকদের মতে, পাটের বাজারদর স্থিতিশীল থাকলে এ ফসল তাদের জন্য আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে পাটের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়া হলে আঁশের মান ভালো হবে। এতে কৃষক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তবে কৃষকেরা বলছেন, শুধু আবাদ ও উৎপাদন বাড়লেই হবে না, উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত করতে হবে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা পাট চাষে আরও উৎসাহিত হবেন। শার্শার মাঠে এখন পাট কাটার ব্যস্ততা। কৃষকের ঘরে উঠছে সোনালি আঁশ। সেই সঙ্গে তাদের প্রত্যাশা পরিশ্রমের ফসলের ন্যায্য দামও ঘরে ফিরবে। পাটের আবাদ বাড়ার এই ধারাকে টেকসই করতে বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এখন কৃষকদের সবচেয়ে বড় দাবি।

যশোরের শার্শা উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সবুজ পাটের সমারোহ। কয়েক বছর আগেও যেসব জমিতে ধান, ভুট্টা কিংবা অন্যান্য ফসলের আবাদ হতো, চলতি মৌসুমে সেসব জমির বড় একটি অংশ দখল করেছে পাট। কোথাও কৃষকেরা পাট কাটছেন, কোথাও চলছে আঁটি বাঁধার কাজ। আবার কোনো কোনো এলাকায় পাট জাগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষিরা।

অনুকূল আবহাওয়া, ভালো ফলনের সম্ভাবনা এবং পাট ও পাটখড়ির বাজারে চাহিদা থাকায় এ বছর শার্শায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় ভালো ফলন হলেও শেষ পর্যন্ত ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, বাজারে প্রত্যাশিত দাম না মিললে লাভের বদলে লোকসান গুনতে হতে পারে।

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে এ আবাদ ছিল ৫ হাজার হেক্টর, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে উপজেলায় পাটের আবাদ বেড়েছে ৫০৩ হেক্টর। শার্শার দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। চলতি মৌসুমে সময়মতো বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ এলাকায় পাটের গাছ হয়েছে বেশ সতেজ ও লম্বা। কোথাও কোথাও গাছের উচ্চতা ও আঁশের মানও ভালো হয়েছে। কৃষকদের ধারণা, বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৬ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হতে পারে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেশি ও উচ্চফলনশীল জাতের পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ, উন্নত জাতের বীজ এবং সরকারি প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ পাওয়ায় অনেক কৃষক নতুন করে পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি পাটখড়ির চাহিদা থাকায় পাটকে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবেও দেখছেন তারা।

তবে মাঠে ফলন ভালো হলেও কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি নেই। পাট চাষের শুরু থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই বেড়েছে খরচ। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার ও কীটনাশকের পাশাপাশি পাট কাটা, আঁটি বাঁধা, বহন এবং জাগ দেওয়ার জন্য শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। অনেক এলাকায় শ্রমিক সংকট থাকায় বেশি মজুরি দিয়েও সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়।

আরও পড়ুন: গলাকাটা ফি নিয়ে নিম্নমানের আইডি কার্ড সরবরাহ করছে গোবিপ্রবি প্রশাসন

শার্শার বাগআঁচড়া এলাকার পাটচাষি আবদুল হালিম বলেন, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। গাছও বেশ লম্বা হয়েছে। কিন্তু পাট কাটতে, আঁটি বাঁধতে ও জাগ দিতে শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। তেলের দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় অনেক বেশি। বাজারে ভালো দাম না পেলে কৃষকের হাতে লাভ থাকবে না। পাট চাষে পরিশ্রম অনেক। ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত একের পর এক খরচ করতে হয়। তাই বাজারে দাম কমে গেলে কৃষকের সব পরিশ্রম বৃথা যাবে।

আরেক পাটচাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করে পাট চাষ করি। বীজ বোনা থেকে শুরু করে পাট জাগ দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কাজে খরচ বেড়েছে। পাটের ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়বেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে পাটসহ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক। পাটের পাশাপাশি পাটখড়ি থেকেও বাড়তি আয় হয়। জ্বালানি, ঘরের বেড়া, ছাউনি এবং বিভিন্ন কাজে পাটখড়ির ব্যবহার থাকায় স্থানীয় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও পাটখড়ি পাঠানো হয়। ফলে পাটের বাজারদর কিছুটা কম হলেও পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।’ তবে পাটের দাম স্থিতিশীল না থাকলে সামগ্রিকভাবে চাষিদের লাভবান হওয়া কঠিন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতে বাজারে পাটের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ সময় কৃষকেরা অনেক ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে পাট বিক্রি করেন। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হলেও প্রকৃত উৎপাদক কৃষকেরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে সরকারি প্রণোদনার আওতায় কৃষকদের মধ্যে পাটের বীজ বিতরণ করা হয়েছে। পাট উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাট কাটার পর সঠিক পদ্ধতিতে জাগ দেওয়া হলে আঁশের মান ভালো হবে এবং কৃষকেরা বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাট জাগ দেওয়ার সময় পরিষ্কার পানি ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর পর ভালোভাবে ধুয়ে শুকানোর বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত আঁশ উৎপাদন করতে পারলে বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটিই ভালো থাকবে।

শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, ওজন কমাতে জোর দিবেন যে ৩ বিষয়ে
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
মেহেরপুরে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেবে কেয়ার বাংলাদেশ
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
১৪ মানদণ্ডে ‘সেরা শিক্ষক’ নির্বাচন করবে মন্ত্রণালয়, থাকছে প…
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
বসে গল্প করছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান, হঠাৎ মুখোশধারীদের হামলা
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ‘উচ্চশিক্ষায় গুণগত …
  • ৩১ আগস্ট ২০২৬