যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম, জাসাস নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ এলাকাবাসীর

৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫০ PM
সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী।

সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। © টিডিসি ফটো

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্ত্রীকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মামলার আসামি জাসাস নেতা জমির উদ্দীন সরকার জনিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী। অভিযুক্ত জনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন সবরিতলা এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়।

এ সময় শ্রাবণী আক্তারের বাবা ছামছুল ইসলাম, মা মোর্শেদা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। তারা অভিযোগ করেন, নৃশংস এ ঘটনায় মামলা হলেও আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না। নিরুপায় হয়ে আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তাঁরা সড়কে অবস্থান নেন।

অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা এই অবরোধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। পলাশবাড়ী থানার উপপরিদর্শক জুয়েল জানান, আসামি জমির উদ্দীন সরকার জনিকে গ্রেফতারে একাধিক টিম কাজ করছে। প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়েও তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট গভীর রাতে পলাশবাড়ী পৌরসভার গৃধারীপুর এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। ওই রাতে যৌতুকের টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন স্বামী জনি। শ্রাবণী অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালান তিনি। ব্যর্থ হয়ে ধারালো বটি দিয়ে স্ত্রীর মাথা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপান।

গুরুতর আহত অবস্থায় শ্রাবণীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে মাথা ও হাতে শতাধিক সেলাই দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি পৈত্রিক বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর জনি শ্রাবণীকে মৃতপ্রায় অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার কথা বলে ভর্তি করান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে প্রকৃত ঘটনা ফাঁস হয়। শ্রাবণীর বাবা ছামছুল ইসলাম জানান, প্রায় চার বছর আগে বিয়ে হয়। সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন জনি। সংসার টিকিয়ে রাখতে একাধিকবার নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

এ ঘটনায় যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পলাশবাড়ী থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় জনি মিয়াকে একমাত্র আসামি করা হলেও মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামির মোবাইল ফোন বন্ধ, বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও সন্ধান মেলেনি।

এদিকে ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো পুলিশের ধীরগতির পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেফতার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। গাইবান্ধায় যৌতুকের কারণে নারী নির্যাতন নতুন নয়, প্রতি বছর এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটলেও বিচার পাওয়া বিরল বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকর্মীরা।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও আর্থিক সাহায্যের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রান্নার সময় গরুর মাংসের রং সবুজ, কারণ জানাল নিরাপদ খাদ্য কর…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
শেষ ওভারের নাটকীয়তায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের টানা দ্বিতীয় জয়
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
৯০০ শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন সেই প্রধান শিক্ষক
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
এসএসসির অকৃতকার্যদের জন্য বিশেষ পলিসি করবে সরকার, উদ্যোক্তা…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
মোংলা ইপিজেড মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক-নার্স নিয়োগে বিজ্ঞপ্ত…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬
ডেটা সুরক্ষায় ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়তে রবি’র ‘প্রাইভেসি অ্যাভেঞ…
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬