ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট (ডানে) ও গুগল ম্যাপে যানজটের চিত্র (বামে) © টিডিসি সম্পাদিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় গতকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১০টা পর্যন্ত টানা ৩৭ ঘণ্টা ধরে চলা যানজট স্বাভাবিক হয়নি। এই যানজট নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ে একটি সেতুর সংস্কার কাজের কারণে তৈরি হওয়া দীর্ঘ যানজট প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আজ স্বাভাবিক হওয়া শুরু হয়েছে। সংস্কার হওয়া লেনটি আজ শনিবার সকালে খুলে দেওয়ার পর যানজট কমতে শুরু করে। তবে রাত ১০টার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কুমিল্লার দাউদকান্দি, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও ঢাকাগামী মেঘনা সেতুর আগে যানজট দেখা গেছে।
জানা যায়, সোনারগাঁয়ের আষাঢ়িয়ার চর সেতুর জরুরি সংস্কার কাজকে দায়ী করা হচ্ছে। সেতুর ঢাকামুখী লেনে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে শুক্রবার সকালে সংস্কার কাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ। তাই একটি লেন বন্ধ রেখে অপর লেন দিয়ে সীমিত পরিসরে যানবাহন চলাচল করছে। এতে দ্রুতই যানবাহনের চাপ বেড়ে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
কিন্তু সমস্যা শুধু একটি সেতুতে আটকে থাকেনি। ওই অংশে তৈরি হওয়া জট ধীরে ধীরে পেছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে দাউদকান্দি, গৌরীপুর, মেঘনা টোলপ্লাজা, ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা হয়ে কুমিল্লার বিভিন্ন অংশে। ফলে স্বাভাবিক সময়ে এক-দেড় ঘণ্টায় যে পথ পাড়ি দেওয়া যায়, সেটি অতিক্রম করতেই যাত্রীদের লাগছে ৮-১০ ঘণ্টা, কোথাও তারও বেশি।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থেকে প্রচণ্ড গরমে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহান। দীর্ঘ সময়ে অনেকেই খাবার ও সুপেয় পানির সংকটে পড়েন।
এদিকে, ভয়াবহ এই যানজটে আটকে অ্যাম্বুলেন্সেই প্রাণ হারিয়েছেন আমিরুন্নেছা নামের এক হৃদরোগী। শুক্রবার রাত থেকে মহাসড়কের দাউদকান্দি অংশে দীর্ঘ চার ঘণ্টা আটকে থাকার পর শনিবার ভোর রাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত আমিরুন্নেছা লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার প্রাণভগবতীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে আমিরুন্নেছা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাত ৮টার দিকে তাকে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দি এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সটি তীব্র যানজটের কবলে পড়ে। দীর্ঘ চার ঘণ্টা গাড়িটি প্রায় স্থবির হয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল। শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম বলেন, বন্ধ লেন খুলে দেওয়ার পর দুই লেনেই যানবাহন চলছে। তবে দীর্ঘ সময় জমে থাকা গাড়ির চাপ একসঙ্গে কমানো সম্ভব নয়। তাই যানজট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।