শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে © ভিডিও থেকে নেওয়া
পোষা বিড়ালের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ সদরে এক ভেটেরিনারি চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের পেছনে ‘ডক্টর’স পেট কেয়ার’ নামে ব্যক্তিগত চেম্বারে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় ভুক্তভোগী চিকিৎসককে লাথি ও কিল-ঘুসির সঙ্গে জুতাপেটাও করেন এক নারী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভুক্তভোগী চিকিৎসকের নাম ডা. আশিক। অপর এক চিকিৎসকের সঙ্গে তিনি ওই চেম্বারটি পরিচালনা করেন। তবে এ ঘটনায় হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মারধরের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৮ মিনিটেও নিজ চেম্বারে বসে সামনে থাকা কারো সঙ্গে কথা বলছিলেন ডা. আশিক। এ সময় এক নারী তার পাশে গিয়ে অতর্কিতে তাকে জুতা দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। মারধরের সময় ওই নারী উত্তেজিত অবস্থায় চিকিৎসককে কিছু বলছিলেন। ঘটনার সময় ওই চিকিৎসক ছাড়া কক্ষে আরও ৭ জন ছিলেন।
ওই নারী চিকিৎসককে অন্তত ১৪ বার জুতা দিয়ে আঘাত করেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত আরেক যুবক গিয়ে চিকিৎসককে কিল-ঘুসি মারতে থাকেন। পরে ওই নারী পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন পুরুষ ও নারীকে মারধরের চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. আশিক ও হামলাকারীদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে প্রাইভেট সেক্টরে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ানদের সংগঠন প্রাইভেট ভেটেরিনারি অ্যাসোসিয়েশন, ময়মনসিংহ। বিবৃতিতে বলা হয়, একজন চিকিৎসক তার কর্মস্থলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন—এটি তার মৌলিক অধিকার। কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের অভিযোগ, মতবিরোধ কিংবা অসন্তোষ থাকলে তা অবশ্যই আইনানুগ ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানযোগ্য। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের কর্মস্থলে হামলা, ভাঙচুর, হুমকি বা ভয়ভীতি প্রদর্শন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বিবৃতিতে কয়েকটি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো—ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করতে হবে, হামলা, ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসক ও তাদের চেম্বারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে আইনানুগ প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ভেটেরিনারিয়ানদের কর্মস্থলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমাদের এখানে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। তবে ঘটনা নজরে আসার পর আমাদের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।