সাপে কামড়ের অ্যান্টিভেনাম না দিয়ে রেফার, যাওয়ার পথে বিএনপি নেতার মৃত্যু

০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৪ PM , আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৪ PM
নিহত জাকির মৃধা

নিহত জাকির মৃধা © সংগৃহীত

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সাপের কামড়ে জাকির মৃধা (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সাপের কামড়ের পর তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও অ্যান্টিভেনাম না দিয়ে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে পটুয়াখালী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। 

নিহত জাকির মৃধা গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃধা বাড়ির মো. ফজলুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ ঘরে বসে চা খাওয়ার সময় একটি সাপ তার বাম পায়ের আঙুলে কামড় দেয়। সাপটি দেখতে পেয়ে তিনি বিষয়টি স্ত্রীকে জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

হাসপাতালের রেজিস্টার অনুযায়ী, সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে জাকির মৃধাকে সাপের কামড় নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে অ্যান্টিভেনামসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়।

নিহতের বড় ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল অদুদ মৃধা বলেন, হাসপাতালে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অ্যান্টিভেনাম ইনজেকশন দিলে আমার ভাই মারা যেত না। কর্তব্যরত চিকিৎসক কেন ইনজেকশন ও চিকিৎসা না দিয়ে রোগীকে পটুয়াখালী রেফার করলেন, তা আমার জানা নেই। অ্যান্টিভেনাম দিলে হয়তো পটুয়াখালী নেওয়ার মতো সময় পেতাম। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান।

অ্যাম্বুলেন্সচালক মো. জুয়েল বলেন, রেফার করার পর পটুয়াখালী নেওয়ার সময় রোগীর জ্ঞান ছিল। পথে কোনো বিলম্ব হয়নি। পটুয়াখালী হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল নাঈম তানহা। তিনি বলেন, রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তার ব্লাড প্রেসার ও হার্ট রেট অনেক বেশি ছিল। এ কারণে কার্ডিয়াক ইস্যুর কথা বিবেচনা করে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পটুয়াখালী হাসপাতালে রেফার করি।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবা উদ্দিন বলেন, কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ দেখে বিষধর সাপ কি না শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে রোগীর শ্বাসকষ্ট ও প্রেসার বেশি থাকায় অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিনিয়র কনসালট্যান্টের সঙ্গে পরামর্শ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

তিনি আরও জানান, গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৪০ ভায়াল অ্যান্টিভেনাম মজুত রয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে রোগীর পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, সাপের কামড়ের পর অ্যান্টিভেনাম প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না, রোগীর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত যথাযথ ছিল কি না এবং হাসপাতালে সাপের কামড়ের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হয়নি—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

রাজনীতি যেন চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা না হয়
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
সরকারের নতুন জালানী নীতিমালা নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাল জাম…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিন দেশেই ছিলাম—দাবি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভা…
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
বিশ্বে প্রথমবার অনুমোদন পেল এমআরএনএ ফ্লু টিকা
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
মদ খেয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬
এনসিপি এখন জামায়াতের শিশু সংগঠন: রাশেদ খান
  • ০৮ আগস্ট ২০২৬