নাজমিন আক্তার লিজা ও নুর উদ্দিন © টিডিসি
ফেসবুক পরিচয়ে প্রেম। দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে। চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের তরুণী নাজমিন আক্তার লিজাকে বিয়ে করেছেন চীনের নাগরিক ওয়্যাং সুলিন (৩০)। এখন তার নাম মো. নুর উদ্দিন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে মোহনগঞ্জে তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ হয়। এতে কনের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন। চীনা যুবককে একনজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসেও ভিড় করেন।
এর আগে গত ২১ জুলাই ওয়্যাং সুলিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে একই দিনে লিজাকে বিয়ে করেন। ওয়্যাং সুলিন চীনের লুবেই প্রদেশের লুরাং শহরের বাসিন্দা। তিনি সেখানে ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।
নাজমিন আক্তার লিজা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ভাটগাঁও গ্রামের মো. নাজিম উদ্দীনের মেয়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
নাজিম উদ্দীন পৌর শহরের একজন ফার্নিচার ব্যবসায়ী এবং তার ছেলে সোহান স্থানীয় একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করেন।
নাজমিন আক্তার লিজা মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
নাজমিন আক্তার লিজার বড় ভাই সোহান জানান, প্রায় দুই মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওয়্যাং সুলিন ও লিজার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই পরিবারকে বিষয়টি জানান। পরিবারের সম্মতির পর গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশে আসেন ওয়্যাং সুলিন। পরে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে আমরা গিয়ে তাকে নিয়ে আসি।
লিজার বাবা মো. নাজিম উদ্দিন বললেন, বিয়ের আগে আমরা ছেলের পরিবার এবং চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে সব তথ্য যাচাই করেছি। পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই ওয়্যাং সুলিন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একই দিনে লিজাকে বিয়ে করেন।
নাজিম উদ্দীন বসবাসরত ভাড়া বাসার মালিক স্থানীয় বাসিন্দা সাহাজুল বলেন, শুরুর দিকে বিদেশিদের মাধ্যমে প্রতারণার বিভিন্ন খবরের কারণে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে মেয়ের পরিবার সব তথ্য যাচাই করেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।