সাঙ্গু নদীর পাড় উপচে লোকালয় পানি প্রবেশ করছে © টিডিসি
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাঙ্গু নদীর পাড় উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করা অব্যাহত রয়েছে। এতে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এসব এলাকার গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গভীর রাত থেকে এ নদীর বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া পয়েন্ট দিয়ে পাড় উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে, যা এখনো পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। এতে বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক, বড়িঘর, কৃষিজমি ও মৎস্য প্রজেক্ট তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্টে সাঙ্গু নদীর পাড় উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এ ছাড়াও একই নদীর বিশ্বেশর হাট পয়েন্ট ঘেঁষে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অপর দিকে রামদা, কাটাখালীকুল, মাহালিয়া ও হাঙ্গর খালের পানি দুই পাড় উপচে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাজালিয়া, ছদাহা ও কেঁওচিয়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়াও বুড়ির দোকান ব্রিজ ও দস্তিদার হাট ব্রিজ এলাকায় কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের ওপর দিয়ে একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে সীমিত পরিসরে পানি প্রবাহিত হলেও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বাজালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বড়দুয়ারা গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইফুদ্দিন বলেন, ‘ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এ এলাকার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আমাদের বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। বর্তমান আমরা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অবস্থায় নিয়েছি। এ ছাড়া আমাদের চলাচলের একমাত্র সড়কটিতে কোমরপানি হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।’
মৎস্যচাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত রাতে একটি পুকুরের চারপাশে জাল দিয়ে ঘেরা করার পরও ডুবে গেছে। ফলে ওই পুকুরে থাকা কয়েক লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এ ছাড়া হরিণতোয়া সড়কের প্রবেশ মুখের পুকুরটিতে পানি ঢুকতে শুরু করছে। তারপরও চারপাশে জাল দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
পানিবিজ্ঞান উপবিভাগ চট্টগ্রামের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান হাসান বলেন, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী পয়েন্টের বিপৎসীমা ৬.৫৫ মিটার। বুধবার সকাল ৬টায় ৫.৭২ মিটার, ৯টায় ৫.৮৭ মিটার এবং বেলা ১২টায় ৫.৯২ মিটার সীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিমুহূর্তে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, ‘টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সাঙ্গু নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে নদীর পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি। যেসব এলাকায় মানুষ বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন সেসব এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া আমরা জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত সহায়তা পান।’
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. অমিত দে বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। খরব পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।’
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, পাহাড় ধস ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। এ ছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।