২ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবল চট্টগ্রাম © সংগৃহীত ও সম্পাদিত
মাত্র দুই ঘণ্টার ভারী বর্ষণেই চট্টগ্রাম নগরের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সড়ক ও নিম্নাঞ্চল হাঁটুসমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। যদিও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সফলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতার হাত থেকে রেহাই পায়নি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও।
সোমবার বিকেল ও সন্ধ্যায় শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও পার্কিং এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, টার্মিনাল ভবনে প্রবেশের মূল পথে যাত্রীরা লাগেজ নিয়ে পানির মধ্য দিয়েই হেঁটে যাতায়াত করছেন। এছাড়া নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার ও কাপাসগোলাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। এতে কর্মস্থল ফেরত মানুষ ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিভিন্ন সড়কে যানবাহন সংকটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও ছিল সাধারণ মানুষের।
অথচ একইদিন রাত নয়টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকি ও চসিকের নিবিড় মনিটরিংয়ের কারণে টানা দুই দিনের বৃষ্টিতেও নগরীতে কোনো ‘উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা’ সৃষ্টি হয়নি। মেয়রের এই দাবির কয়েক ঘণ্টা আগেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কাতালগঞ্জের বাসিন্দা মো. সালমান বলেন, মেয়রের কথার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। আজ সন্ধ্যায় সন্তানকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।
বহদ্দারহাটের বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তা হেফাজুতুল ইসলাম বলেন, অফিস শেষে বাসায় ফিরতে গিয়ে রাস্তায় হাঁটুসমান পানি পেয়েছি। রিকশাচালকরা দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছেন। জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া চট্টগ্রামের মানুষের জন্য সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিমানবন্দরের পরিস্থিতি বিমানবন্দরের প্রবেশপথ ও পার্কিং জোন তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রী ও স্বজনদের দুর্ভোগ ছিল চরমে। যাত্রী সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গাড়ি থেকে নেমে টার্মিনাল ভবনে যেতে লাগেজ নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হাঁটতে হয়েছে। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।’
চসিক কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করছে, বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কেবল তদারকি বা পরিচ্ছন্নতা অভিযান দিয়ে চট্টগ্রামের মতো শহরের স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়। জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ছাড়া এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে না।