মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন © সংগৃহীত
গাইবান্ধা শহরে পৌরসভার ময়লাবাহী ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিমপাড়া এলাকায় গাইবান্ধা-সাদুল্লাপুর সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুদ মিয়া (৩৫) গাইবান্ধা পৌর শহরের জুম্মা পাড়া এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে বলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাসুদ মিয়া তার মোটরসাইকেল নিয়ে বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন সংযোগ সড়ক দিয়ে সাদুল্যাপুর সড়কে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে শহরের দিকে আসছিল পৌরসভার একটি আবর্জনাবাহী ডাম্প ট্রাক। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ট্রাকটির গতি ছিল অতিরিক্ত। মোড় পার হওয়ার সময় ডাম্প ট্রাকটি মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাসুদ মিয়া রাস্তায় ছিটকে পড়লে ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হন। আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসলেও তার আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মাসুদ মিয়ার এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো জুম্মা পাড়া এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের অবুঝ কান্না দেখে প্রতিবেশীদের চোখেও জল আটকে রাখা দায় হয়ে পড়েছে। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, দুর্ঘটনাকবলিত এলাকাটি অত্যন্ত ব্যস্ত একটি মোড়, যেখানে প্রায়শই যানজট ও ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। শহরের ভেতরে পৌরসভার এমন ভারী ও বড় যানবাহনগুলোর গতিবেগ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল বলে তারা দাবি জানান।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার পরপরই ঘাতক ডাম্প ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর চালককে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি শহরের অভ্যন্তরীণ সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে শহরের ভেতরে পৌরসভার বড় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর গতিসীমা নির্ধারণ এবং নিয়মিত ট্রাফিক পর্যবেক্ষণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তবে, এই দুর্ঘটনা ও গতিসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।