সরকারি পুকুরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান © সংগৃহীত
পরিবেশ সংরক্ষণ, সরকারি জলাশয় রক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে সরকারি পুকুরে ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) উক্ত কর্মসূচির আওতায় সরকারি পুকুরকে পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব পরিবেশে রূপান্তরের লক্ষ্যে 'বিডি ক্লিন কিশোরগঞ্জ' এর ৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবী সদস্য পুকুরের কচুরিপানা অপসারণসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জেবুন নাহার শাম্মী, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ এবং বিডি ক্লিন কিশোরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা।
সকালে শুরু হওয়া এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে বিডি ক্লিন কিশোরগঞ্জের প্রায় ৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। তারা কয়েক ঘণ্টাব্যাপী পুকুরে জমে থাকা কচুরিপানা, আগাছা ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করেন। স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত পুকুরটি অনেকটাই পরিচ্ছন্ন রূপ ফিরে পায়।
আয়োজকরা জানান, সরকারি জলাশয়গুলোকে দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনার হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিই ছিল এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, পরিচ্ছন্নতা শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। সরকারি জলাশয়, সড়ক, পার্ক ও জনসমাগমস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাই সচেতন হলে পরিবেশ দূষণ অনেকাংশে কমে আসবে। তারা ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি কচুরিপানা ও ময়লায় ভরে থাকায় এর সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মাধ্যমে পুকুরটি আবারও ব্যবহার উপযোগী হয়ে উঠবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সরকারি জলাশয়গুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ারও দাবি জানান তারা।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন কর্মসূচি পরিদর্শন করেন এবং স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য জেলা গড়ে তুলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেলা প্রশাসক জানান, পুকুর থেকে কচুরিপানা সম্পূর্ণ অপসারণের পর পানির গুণগত মান উন্নয়নের জন্য চুন প্রয়োগ করা হবে। এরপর সেখানে মাছ চাষের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সরকারি সম্পদটি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং স্থানীয় মানুষ এর সুফল পেতে পারেন।
তিনি আরও জানান, পুকুরের চারপাশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাইড ওয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ জলাশয়কে কেন্দ্র করে সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তরুণদের মধ্যে সাঁতার চর্চা এবং স্বাস্থ্যকর বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি জলাশয় শুধু সৌন্দর্যের অংশ নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এসব জলাশয় পরিচ্ছন্ন ও সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। জেলা প্রশাসনের একার পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়। সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতা থাকলে পরিচ্ছন্ন কিশোরগঞ্জ গড়ে তোলা সহজ হবে।
তিনি বিডি ক্লিন কিশোরগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিবেশ রক্ষায় তাদের ধারাবাহিক কার্যক্রম প্রশংসার দাবি রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।