সিলগালা ডেক, নিরাপত্তায় আনসার, বন্ধ মদ-গাঁজা—মাজারে হাত দিয়ে পুড়ল ডিসি সারওয়ারের হাত

২১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ PM , আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ PM
ডিসি সারওয়ার আলম

ডিসি সারওয়ার আলম © টিডিসি সম্পাদিত

ফের জাতীয় ইস্যু ডিসি সারওয়ার আলম। সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, দানের ডেক সিলগালা, নতুন দানবাক্স স্থাপন, আনসার মোতায়েন, সিসি ক্যামেরা বসানো এবং মাজারকেন্দ্রিক নানা অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার। তবে সেই আলোচিত পদক্ষেপই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে আলোচনা চলছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে তাকে।

রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে সারওয়ার আলম বলেন, সোমবার (২২ জুন) তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সিলেটের স্থানীয় এক সাংবাদিক লিখছেন, ‘মাজারে হাত দিয়ে ডিসি সারওয়ার আলমের হাত পুড়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিলেটে যোগ দেওয়ার পর শুরুতে বেশ কিছু উদ্যোগের জন্য প্রশংসা কুড়ান সারওয়ার আলম। তবে সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার জন্য প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে রোষানলে পড়েন তিনি। গত ১২ জুন মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসানো হয়। একই সঙ্গে মানুষের দান রাখার ঐতিহাসিক তিনটি ডেকও সিলগালা করা হয়। নতুন দানবাক্সের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য নিয়োগ এবং সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগও নেন তিনি।

শুধু দান ব্যবস্থাপনাই নয়, মাজার এলাকায় মদ, গাঁজা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানিয়েছিলেন সারওয়ার আলম। তার দাবি ছিল, মাজারের আয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই; ফলে জনস্বার্থে এই খাতে প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন। তবে মাজার-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, শত বছরের রেওয়াজ ভেঙে প্রশাসন মাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি ভক্ত-অনুসারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে।

এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে জোরালো আলোচনা শুরু হয়। একপক্ষ তার উদ্যোগকে দুর্নীতি ও অনিয়ম ঠেকানোর সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অন্যপক্ষ একে ধর্মীয় ঐতিহ্যে অযাচিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দেয়। বিশেষ করে মাজারের ঐতিহাসিক ডেগ সিলগালা এবং প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে দানবাক্স স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলেন তারা। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের জেরেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে জোর আলোচনা রয়েছে। যদিও সরকারিভাবে তার বদলির কারণ জানানো হয়নি।

প্রসঙ্গত, ২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দেশজুড়ে আলোচিত ছিলেন। ভেজালবিরোধী অভিযানে তিন শতাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান। পরে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি পান। সিলেটে ডিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও নানা ব্যতিক্রমী উদ্যোগে তিনি আলোচনায় ছিলেন। তবে শাহজালাল (রহ.) মাজার ইস্যুতে তার সর্বশেষ পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত তার প্রশাসনিক অবস্থানই নড়বড়ে করে দিল।

ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বললেন…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
১৭ জন শিক্ষকের প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষার মানোন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক ইউনিভার্…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ দিন আগে প্রাণ হারানো সেই শিহাব পেল জিপিএ-৫
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
নগদের প্রধান কার্যালয়ে ‘নগদ-প্রথমা বইবন্ধন’
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেল কৃষককন্যা পারজানা
  • ১০ আগস্ট ২০২৬