ফেনী

মা-বাবার এনআইডি জটিলতা, উপবৃত্তি পাচ্ছে হাজারো শিক্ষার্থী

২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ PM , আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ PM
ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস

ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস © সংগৃহীত

মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জটিলতা, জন্মনিবন্ধনের ত্রুটি এবং সার্ভার সমস্যার কারণে ফেনীর হাজারো প্রাথমিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে। নতুন নিয়মে উপবৃত্তির জন্য বাবা ও মা উভয়ের এনআইডি তথ্য বাধ্যতামূলক করায় অনেক শিক্ষার্থীর তথ্য তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা। এ ছাড়া যাদের বাবা-মা নেই, তারাও উপবৃত্তি না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিকে প্রতি মাসে ৭৫ টাকা এবং প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৫০ টাকা হারে উপবৃত্তি দিচ্ছে সরকার। চলতি জুন মাসে ফেনীর ৫৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির তথ্য সার্ভারে তালিকাভুক্তির কার্যক্রম শুরু হয়, যা বুধবার (১৭ জুন) শেষ হয়েছে।

ফেনীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন পদ্ধতিতে উপবৃত্তির তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। উপবৃত্তি পেতে শিক্ষার্থীদের বাবা ও মা উভয়েরই জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর তথ্য তালিকাভুক্ত করা যায়নি। এতে অনেক ক্ষুদে শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারে। তা ছাড়া এতিম শিক্ষার্থীরাও এই উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ, বাবা-মায়ের এনআইডি ছাড়া তথ্য অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নেই। এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন অনলাইনে না থাকায় তালিকাভুক্ত করা যাচ্ছে না। উপবৃত্তি পেতে হলে বাবা-মায়ের এনআইডির সঙ্গে মিলিয়ে মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলে তারাও উপবৃত্তির টাকা পাবে না।

শিক্ষকরা আরও জানান, সার্ভার জটিলতার কারণে তথ্য এন্ট্রিতেও বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সারাদিনে এক বা দুজন শিক্ষার্থীর তথ্য এন্ট্রি করা যায়, যার কারণে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া সরকারি ছুটির দিন ও রাতে সার্ভার বন্ধ থাকে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত কেউ উপবৃত্তির টাকা পায়নি।

ফেনী সরকারি পাইলট আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারাহ দিবা খানম বলেন, বাবা-মায়ের উভয়ের এনআইডি জটিলতা ও স্কুল পরিবর্তনের কারণে উপবৃত্তির তথ্য তালিকাভুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে বিদ্যালয়ের ৪৫ জন শিক্ষার্থীর তথ্য তালিকাভুক্ত করা যায়নি। নতুন করে ১২৯ জনের উপবৃত্তির তথ্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। জুন মাসে অর্থবছর শেষ হলে যারা তালিকাভুক্ত হতে পারেনি তারা সুযোগ পাবে।

বিজয়সিংহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, প্রাথমিকের অনেক শিক্ষকের আইটি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা নেই। আবার সার্ভার জটিলতার কারণেও সমস্যায় পড়ছেন তারা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দেখা যায় তালিকাভুক্ত করা যাচ্ছে না। শিক্ষকরা এ কাজে ব্যস্ত থাকায় পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে।

তিনি আরও জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস প্লাস বা ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে সরকারি বাজেট প্রণয়ন, বিল দাখিল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান ও পেনশনসহ যাবতীয় আর্থিক কার্যক্রম অনলাইনে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। ওই সার্ভারেই উপবৃত্তির তথ্য এন্ট্রি করা হয়, যার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমাতে উপবৃত্তি চালু করে সরকার। কিন্তু এনআইডি সমস্যায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী একই সঙ্গে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অন্য কোনো কিন্ডারগার্টেন বা মাদ্রাসায় ভর্তি থাকে। এ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী স্কুল থেকে ঝরে পড়লে বা অন্য স্কুলে চলে গেলেও পোর্টাল থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া বা নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ায় জটিলতা দেখা দেয়।

এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খোন্দকার জানান, উপবৃত্তির টাকা সরাসরি মায়ের বা অভিভাবকের মোবাইলে (নগদ, বিকাশ, রকেট) পাঠাতে হয়। আগে শুধু নগদে উপবৃত্তির টাকা প্রদান করা হতো। এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পরিধি বাড়ায় জটিলতা বেড়েছে। শিক্ষার্থীর বাবা ও মায়ের এনআইডি নম্বর এবং ওই এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত সিমের মালিকানার মিল না থাকলে তালিকাভুক্তিতে বড় বাধা হচ্ছে। এতে অনেক গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবে।

ফেনী সদর উপজেলায় কতজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাচ্ছে এবং কতজনের তথ্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেননি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভীন। এমনকি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও জানেন না তিনি। এ ব্যাপারে তিনি জানান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তিনি জানাতে পারবেন।

এ বিষয়ে জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন আহাম্মদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন অনলাইন না থাকা এবং বাবা-মায়ের নামে ভুল থাকার কারণে উপবৃত্তির তথ্য তালিকাভুক্ত করা যায়নি। একজনের উপবৃত্তির অর্থ অন্যজন যেন উত্তোলন করতে না পারে, সে জন্য বাবা-মায়ের এনআইডি ও মোবাইল নম্বর দিতে হচ্ছে। এসব জটিলতা সমাধানে উপবৃত্তির সেল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে।

সার্ভার জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি বিভাগে পৃথক করে সার্ভারে তথ্য তালিকাভুক্তির সময়সূচি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সময়সূচি অনুযায়ী তালিকাভুক্তি না করায় সার্ভার জটিলতাকে দোষারোপ করা হচ্ছে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর ১০ বিডিআর হত্যাসহ শতাধিক গুম-খুনে জ…
  • ২১ জুন ২০২৬
শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যারে পদের ধরনে জটিলতা, দেখাচ্ছে না বিষয়
  • ২১ জুন ২০২৬
আমি থাকব বাঘের সাথে, রাশেদকে রেখে আসব ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’র পা…
  • ২১ জুন ২০২৬
বিদেশ সফরে নাহিদ ইসলামকে অনুসরণ করছেন প্রধানমন্ত্রী, যে কার…
  • ২১ জুন ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে ভর্তি আবে…
  • ২১ জুন ২০২৬
এক জেলায় চিকিৎসকের পক্ষে মাইকিং নিষিদ্ধ, অমান্য করলে আইনি ব…
  • ২১ জুন ২০২৬