মোহন তালুকদার © সংগৃহীত
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার পলাতক আসামি ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক মোহন তালুকদার থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া শিশুটির ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে শুক্রবার (১৯ জুন) নিবাগত গভীর রাতে তিনি মোহনগঞ্জ থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি আত্মসমর্পণ করলাম। তদন্তের মাধ্যমে সত্যিটা বের হবে আশা করছি।’
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্ত মোহন তালুকদার মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুর এলাকার আবুল কালাম আজাদের ছেলে। তিনি পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। ধর্ষণের অভিযোগের পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মামলার এজাহার, আদালতের নথি এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির বাবা জীবিকার তাগিদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। মা স্থানীয়ভাবে বাসাবাড়িতে কাজ করে তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালান। মামলায় শিশুটিকে কিছুটা মানসিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর দুপুরে শিশুটির মা কাজের জন্য বাইরে গেলে ঘরে শিশুটি ও তার দুই ছোট বোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী মোহন তালুকদার ঘরে প্রবেশ করে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলা এবং দলবদ্ধ ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি ঘটনাটি দীর্ঘদিন গোপন রাখে। চলতি বছরের ১২ মার্চ শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে ধর্ষণের ঘটনার কথা জানায়।
এর পরদিন (১৩ মার্চ) স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাফি করালে রিপোর্টে ১৩ সপ্তাহের গর্ভধারণের তথ্য পাওয়া যায়। ১৫ মার্চ অন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও একই ধরনের রিপোর্ট আসে।
সেদিন আইনি সহায়তা নিতে পরিবারটি মোহনগঞ্জ থানায় গেলে আদালতে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে শিশুটির মা বাদী হয়ে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ করেন। পরে আদালত মোহনগঞ্জ থানাকে মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর ২ মে ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলা হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত মোহন তালুকদার গা ঢাকা দিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তাকে গ্রেপ্তারে তৎপর হয় পুলিশ।
আজ শনিবার সকালে ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে মোহন তালুকদারের পরিবারকে এ বিষয়ে কাউন্সেলিং করেছি যেন তিনি (মহন) আত্মসমর্পণ করেন। এটা তাদের জন্যই পজিটিভ হবে। আর রেজাল্ট তো আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’