জুমার খুতবা ও ইমামতি করে প্রসংশায় ভাসছেন কুতুবদিয়ার ইউএনও

২০ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ AM
খুতবা দিচ্ছেন ইউএনও মো. মিজানুর রহমান

খুতবা দিচ্ছেন ইউএনও মো. মিজানুর রহমান © সংগৃহীত

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান নিজেই জুমার নামাজের খুতবা প্রদান এবং ইমামতি করে এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। 

শুক্রবার (১৯ জুন) দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের পাশের একটি মসজিদে অনুষ্ঠিত জুমার জামাতে তিনি মুসল্লিদের উদ্দেশে যুগোপযোগী ধর্মীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং পরে নামাজে ইমামতি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজ উপলক্ষে মসজিদে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটে। খুতবার শুরুতে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নৈতিকতা বিষয়ে আলোচনা করেন ইউএনও মো. মিজানুর রহমান। তিনি সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার পাশাপাশি নাগরিক দায়িত্ব পালনের বিষয়েও মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করেন।

খুতবার সময় উপস্থিত মুসল্লিরা গভীর মনোযোগের সঙ্গে তার বক্তব্য শোনেন। খুতবা শেষে তিনি জুমার নামাজে ইমামতি করলে মুসল্লিরা তার নেতৃত্বে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে অনেকেই তার এই উদ্যোগকে ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন।

দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘নবাগত ইউএনও মো. মিজানুর রহমান জুমার খুতবায় অত্যন্ত যুগোপযোগী ও শিক্ষণীয় বয়ান পেশ করেছেন। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। উপস্থিত মুসল্লিরা তার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমবে এবং পারস্পরিক আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান সম্প্রতি কুতুবদিয়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে স্থানীয়দের নজর কাড়েন।

বিশেষ করে গত পবিত্র ঈদুল আজহায় তিনি উপজেলার দীর্ঘদিনের প্রচলিত মসজিদভিত্তিক পৃথক পৃথক ঈদের জামাতের পরিবর্তে মুসল্লিদের বৃহত্তর অংশকে একত্রিত করে ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাত আয়োজনের উদ্যোগ নেন। তার এই পদক্ষেপের ফলে বিভিন্ন এলাকার মুসল্লিরা একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করার সুযোগ পান। সামাজিক ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে ইতিবাচক অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেয়। ইউএনও মো. মিজানুর রহমানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড কুতুবদিয়ার প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলেও মনে করছেন তারা।

কুতুবদিয়ার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও ইউএনওর এমন সক্রিয় উপস্থিতি ভবিষ্যতে উপজেলাটির সার্বিক উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চুয়েটের অচলবস্থা নিরসনে বুয়েট-চবি-সিভাসু ভিসিসহ ৫ সদস্যের …
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ভিন্ন হান্নানের আলিশান বাড়িকে ‘এনসিপির হান্নান মাসউদের বাড়ি…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম বর্ষের পরীক্ষার রুটিন প্…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
অস্ত্র হাতে ইশরাকের অভিযান চালানো সেই স্পটে এবার গেল যৌথবাহ…
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
ফ্যান চুরির দায়ে বিএনপি নেতার ছেলের কারাদণ্ড
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম 
  • ১৯ অক্টোবর ২০২৬