স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজলেই থেমে যায় যশোর, সমাধান খুঁজছে প্রশাসন

১৯ জুন ২০২৬, ১০:১৯ AM , আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২৮ AM
স্কুল ছুটির পর বিভিন্ন স্কুলের সামনে সৃষ্ট যানজটে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

স্কুল ছুটির পর বিভিন্ন স্কুলের সামনে সৃষ্ট যানজটে বিপাকে শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো

স্কুল ছুটির পরপরই যশোর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, অনেক স্থানে পায়ে হেঁটে চলার জায়গাটুকুও খুঁজে পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবী ও সাধারণ পথচারীরা। বিষয়টি নিয়ে সমাধান খুঁজছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের ব্যস্ততম এম এম আলী রোডে সামান্য দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত যশোর ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যশোর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং যশোর অক্ষর শিশু কিশালয়। সরকার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রায় একই সময়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানে ছুটি হওয়ায় সড়কটিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পাইপপট্টি এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাইপ ও মালামাল সড়কের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখার প্রবণতা।

স্কুল ছুটির আগেই রিকশা, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যায়। অনেক অভিভাবক তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তার ওপর কিংবা পাশে রেখে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করেন। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় কোনো ধরনের শৃঙ্খলা বজায় থাকে না। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো সড়ক যানজটে অচল হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানায়, কালেক্টরেট স্কুল ও যশোর ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী একটি মাত্র ফটক ব্যবহার করে মূল সড়কে ওঠে। কালেক্টরেট স্কুলের আগে দুটি ফটক চালু থাকলেও বর্তমানে একটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্য ফটকটি চালু করা হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই চিত্র দেখা যায় যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে মুন্সী মেহেরুল্লাহ সড়ক এবং মধুসূদন তারাপ্রসন্ন (এমএসটিপি) বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন বিজয়কৃষ্ণ রোডে। সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে দুটি ফটক খোলা থাকলেও অধিকাংশ অভিভাবক প্রধান ফটক ব্যবহার করেন। অন্যদিকে এমএসটিপি স্কুলে ছুটির সময় প্রধান ফটক ছাড়া অন্য ফটকগুলো বন্ধ থাকায় সড়কে যানবাহন ও মানুষের চাপ আরও বেড়ে যায়।

যশোর অক্ষর শিশু কিশালয়ের অধ্যক্ষ প্রফেসর শৈলেশ কুমার রায় বলেন, ‘একই এলাকায় তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় এবং প্রায় একই সময়ে ছুটি হওয়ায় যানজট সৃষ্টি হয়। তবে তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করায় সামনে তুলনামূলক কম চাপ থাকে। পরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।’

যশোর ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা শিরীন সুলতানা বলেন, ‘ছুটির সময় রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে যানজট তৈরি হয়।  ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্বে থাকলে অভিভাবক ও চালকদের নিয়ম মেনে চলতে বাধ্য করা সম্ভব হতো।’

মধুসূদন তারাপ্রসন্ন গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে শহরের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি হয়। ফলে ওই সময়ে যানজট বাড়ে। এছাড়া তিনি স্কুলের সামনে ট্রাফিক পুলিশ ও স্পিড ব্রেকার স্থাপনের দাবি জানান।

আরও পড়ুন : গোবিপ্রবিতে ব্রাজিল সমর্থকদের বর্ণাঢ্য র‍্যালি

যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সহীলুদ্দীন বলেন, ‘অভিভাবকদের অনেকেই প্রধান ফটকের সামনে ভিড় করেন এবং রাস্তার ওপর যানবাহন রেখে অপেক্ষা করেন। দুটি ফটক সমানভাবে ব্যবহার এবং সড়কে গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা গেলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব।’

এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার বলেন, ‘স্কুল ছুটির সময় শহরে যানজটের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

একাদশে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে হাইতির মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিল,…
  • ১৯ জুন ২০২৬
১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি করল সরকার
  • ১৯ জুন ২০২৬
মেসির বাবার মৃত্যু নিয়ে গুজব, উপস্থাপিকাসহ পুরো টিমকে চাকর…
  • ১৯ জুন ২০২৬
স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কত?
  • ১৯ জুন ২০২৬
উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে ইন্টার ডিপার্টমেন্ট বিতর্ক প্রতিযোগিতা
  • ১৯ জুন ২০২৬
স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজলেই থেমে যায় যশোর, সমাধান খুঁজছে প্রশা…
  • ১৯ জুন ২০২৬