গ্রেপ্তার মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মো. শিহাব © সংগৃহীত
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসার এক শিশুশিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় প্রতিষ্ঠানটির আরেক শিক্ষার্থী মো. শিহাব হোসেনকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) রাতে পাবনা জেলার বেড়া থানা এলাকা থেকে রামপুরা থানা-পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার শিহাব বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের খাকছাড়া গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে। তিনি বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
বেড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মন্তাজ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রামপুরা থানার এসআই একরামুল হকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলে বেড়া উপজেলায় অভিযানে আসে। অভিযুক্ত শিহাব মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে টাঙ্গাইলে ছিল। পরে তার বাবাকে দিয়ে কথা বলিয়ে শিহাবকে বেড়ায় ডেকে আনা হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বেড়া সিএনবি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে পৌঁছার পর তাকে গ্রেপ্তার করে রামপুরা থানায় নিয়ে যায়। অভিযানে বেড়া থানা-পুলিশ তাদের সহযোগিতা করে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার এসআই একরামুল হক বলেন, এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে শিহাবকে অভিযুক্ত করে বুধবার থানায় একটি মামলা করেছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এসআই একরামুল আরও জানান, শিহাবের বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ রয়েছে। আর শিশু শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহকেও সে বলাৎকার করেছে এবং সে কারণে আব্দুল্লাহ অপমানে ক্ষোভে গলায় ফাঁসি নিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর শিহাবকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশ জানায়, সুরতহাল প্রস্তুতের সময় ভুক্তভোগীর পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের লক্ষণ দেখা যায়। এরপর ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, মো. শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও মাদরাসার চারজন ছাত্রের সঙ্গে বিকৃত যৌনচারে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে কর্তৃপক্ষ থানায় এসে এ বিষয়ে শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করে। সেই এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে রামপুরা থানায় শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত শিশু আব্দুল্লাহর মা মোছা. টুকু আরা খাতুন বুধবার (২০ মে) রামপুরা থানায় শিহাব হোসেন ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন।
গত ১৯ মে রাত ১০টার সময় রামপুরা বনশ্রী সি-ব্লকের একটি মাদ্রাসায় ১০ বছর বয়সী একজন ছাত্র গলায় গামছা পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার সংবাদ পায় পুলিশ। পরে রামপুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। এরপর শিশুটির মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।