ইউপিডিএফ (মূল) দলের এক কালেক্টরসহ তিন সদস্য আটক হয়েছেন © সংগৃহীত
খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ (মূল) দলের এক কালেক্টরসহ তিন সদস্য আটক হয়েছে। এসময় একটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে এক সশস্ত্র সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলেও জানা গেছে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় সিন্ধুকছড়ি জোনের অধীনস্থ জালিয়াপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী বুদংছড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় সেখানে অবস্থানরত ইউপিডিএফ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। পরে অভিযান চালিয়ে ইউপিডিএফের কালেক্টর রনেল চাকমা ওরফে মন্টু চাকমাসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
আটক রনেল চাকমার বাড়ি গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি এলাকায়। অপর আটক ব্যক্তি রাজু মারমা ওরফে সাচিং (১৮), যার বাড়ি রামগড় উপজেলার যৌথ খামার এলাকায়। অভিযানে গুলিবিদ্ধ হন সুইথোয়াই মারমা (৩৫), তার বাড়ি উপজেলার খেদা এলাকায়।
জানা গেছে, গোলাগুলির সময় সুইথোয়াই মারমা ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। পরে সেনাসদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
অভিযানস্থল থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, ৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরে আটক দুই সদস্য ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র রামগড় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে ইউপিডিএফের একটি সূত্র আটক দুইজনকে নিজেদের সদস্য বলে স্বীকার করেছে।
রামগড় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবাইন বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়া হলে একজন আহত হয় এবং আরও দুইজনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, গুলি ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।’
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। এ ধরনের অভিযান স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।