মায়ের সঙ্গে সজল কুমার রায় © সংগৃহীত
ক্যানসারে আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে আর্তনাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দরিদ্র পরিবারের সন্তান সজল কুমার রায় এখন মায়ের জীবন রক্ষায় লড়ছেন চরম আর্থিক সংকটের সঙ্গে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ১৫ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা এই মেধাবী শিক্ষার্থী নিজের সংগ্রাম পেরিয়ে দেশের শীর্ষ বিদ্যাপীঠে জায়গা করে নিয়েছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালানো সজল এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ে—৪৬ বছর বয়সী মা স্বপ্না রানীর ক্যানসারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে।
জটিল ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত সজলের মা স্বপ্না রানী। কাঠমিস্ত্রি বাবার সামান্য আয় আর সজলের টিউশনি—এই দুইয়ের ওপর ভর করেই চলত সংসার, চলত চিকিৎসার লড়াইও। কিন্তু রোগ ধরা পড়ার পর গত দুই বছরে একে একে বিক্রি করতে হয়েছে শেষ সম্বল ১০ শতক জমি, তিনটি গরুসহ যা কিছু ছিল। এখন প্রায় নিঃস্ব পরিবারটি মায়ের জীবন বাঁচানোর আশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
তবে দীর্ঘ সময়েও দেশের চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল মেলেনি। ফলে এখন যতদ্রুত সম্ভব দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
সজল কুমার রায়ের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামে। বাবা মোহননাল চন্দ্র রায় পেশায় কাঠ মিস্ত্রি, মা গৃহিণী। চার ভাইয়ের মধ্যে সজল দ্বিতীয়। পরিবারে বাবা-মা, ভাই-ভাবি ও তাদের এক কন্যা সন্তানসহ সজলের ছোট আরও দুই ভাই রয়েছে। তারা স্থানীয় স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে দশম শ্রেণিতে পড়ে। বড় ভাই টেক্সটাইলের ডে লেবার হিসেবে কাজ করেন।
আরও পড়ুন: বুটেক্সের ল্যাবে পুরোনো ও অচল মেশিন, ব্যাহত ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম
সজলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রথমে রংপুরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষায় মা স্বপ্না রানীর ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় রোগটির নাম ‘সিএআরটি ব্রেস্ট, আইডিসিসি, জি-২’। বেশকিছু দিন সেখানকার চিকিৎসায় আশানুরুপ ফল না পেয়ে পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করানো হয়। সেখানেও চিকিৎসার উন্নতি না হয়ে সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল ঢাকার আহসানউল্লাহ মিশন ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করেন স্বপ্না রানীর। সেখানে মেডিকেল ইকোলজি ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট ড. পারভিন শাহিদা আখতারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।
পরিবার জানায়, ২০২৪ সালে সজলের মায়ের ক্যানসার ধরা পরলেও সমেস্যা দেখা দিয়েছিল আরও দুই বছর আগে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট আর সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভালো চিকিৎসা কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা যায়নি। প্রথম দুই বছর হোমিও চিকিৎসা করা হয় স্বপ্না রানীর। পরে পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে তাকে রংপুরে চিকিৎসা শুরু করা হয়।
সজল বলেন, ‘আমাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। মায়ের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা জরুরি। মাকে বাঁচাতে হলে অতি দ্রুত ১৫ লাখ টাকার প্রয়োজন, যা আমাদের সংগ্রহ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যা ছিল সম্বল আগেই বিক্রি করে দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘শেষ চার মাস ধরে প্রতিমাসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ বাবদ ৩০ থেকে ৩৫ হাজার করে টাকা যাচ্ছে। এতে আমরা হাঁপিয়ে উঠছি। সামনে হয়তো আর সম্ভব হবে না।’
সজল জানান, সর্বশেষ গত (২৩ মার্চ) আহসানিয়া মিশন অ্যান্ড ক্যানসার জেনারেল হাসপাতালে মাকে দেখানো হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসক প্রথম দিন কোনো ডিসিশন (সিদ্ধান্ত) দিতে পারেননি, তারা সময় নিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার তারা ডেকেছেন। সেদিন হয়তো চিকিৎসা বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলবেন। জানি না তারা কি জানান! এক বছর ধরে টানা চিকিৎসা চলছে কিন্তু বাংলাদেশের চিকিৎসায় কোনো রেজাল্ট হচ্ছে না।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের, জানা গেল কারণ
দেশের বাইরে জটিল এই রোগের জন্য চিকিৎসায় ব্যয় হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা, যা সজলের পরিবারের জন্য জোগার করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে মাকে বাঁচাতে দেশের সরকার ও বিত্তবানসহ সরকারি-বেসরকারি দানশীল প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী।
স্বজল কুমার রায়ের নম্বর ০১৬১২০২৩৮৮৬ (বিকাশ, নগদ, রকেট)। এ ছাড়া, ব্র্যাক ব্যাংক, নাম: Shojol Kumar, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 1066367030001, শাখা: এলিফ্যান্ট রোড, রাউটিং নম্বর: 060261339। ইসলামী ব্যাংক, নাম: Shojol Kumar, অ্যাকাউন্ট নম্বর: 20502156700186003, শাখা: এলিফ্যান্ট রোড, রাউটিং নম্বর: 125261337।
শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে প্রথম শুনলাম। সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সেক্টরে চিকিৎসা-সংক্রান্ত সহযোগিতা করা হয়। তারা যোগাযোগ করলে বা খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।’