জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব হলেই দেন মামলা © টিডিসি সম্পাদিত
তিন বছর আগে ২০২৩ সালের ২৩ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সকল সরকারি নিয়ম মেনে সাড়ে দশ শতক ভবনসহ একটি জমি কিনে নেন আনিসুর রহমান। এরপর ভোগদখল করতে থাকলেও প্রায় ৩ বছর পর হঠাৎ জমির আগের মালিক আদালতে মামলা করেন আনিসুর রহমানের নামে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা করা হয়, জমির টাকা না দিয়েই নাকি জমি কিনেছেন। এরপর একের পর এক দেওয়া হয় এজেন্ট ব্যাংক ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি-হুমকি ও দখলের ৬টি আলাদা মামলা। যদিও এরমধ্যে দুটি থেকে ইতোমধ্যে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
শুধু আনিসুর রহমানই নয় নাচোল উপজেলার ধানসুরা বাজার এলাকার বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের নামে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি মামলা করেছে এরফান আলী ও তার ছেলে মেরাজ আলী সুমন। গ্রামের অন্তত ৬০-৭০ জন বাসিন্দাদের নামে এজেন্ট ব্যাংক ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি-হুমকি ও দখলসহ বিভিন্ন মামলা করেছেন তারা। জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব হলেই অন্য মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক এরফান আলীর ছেলে প্রায় ৩ বছর আগে ধানসুরা বাজারের জমিটি বিক্রি করেন আনিসুর রহমানের কাছে। কিন্তু হঠাৎ দীর্ঘদিন পরে এসে উল্টো মামলা করেন এরফান আলীর ছেলে মেরাজ আলী সুমন। ৬টি মামলার আসামী আনিসুর রহমান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সকল সরকারি নির্দেশনা মেনে সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে আমাকে জমি রেজিস্ট্রি দেয় মেরাজ আলী। কিন্তু এখন তার বাবা টাকা দেয়নি অভিযোগ তুলে মামলা করেছে। অথচ সাব রেজিস্ট্রার জমি বিক্রির সময় তাদেরকে টাকা পেয়েছিল কি-না তা জিজ্ঞেস করেছিল।
তিনি আরও বলেন, আমার সাথে ঝামেলা শুরু করেছে এই জমি নিয়ে। অথচ আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, হুমকিসহ বিভিন্ন মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ তুলে ৬টি মামলা করেছে। ইতোমধ্যে দুটি মিথ্যা মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দিয়েছি। আরও দুটি মিথ্যা মামলায় নিম্ন আদালত আমাকে নির্দোশ বলেছে, যেগুলে বর্তমানে উচ্চ আদালতে চলমান রয়েছে। আমার মতো গ্রামের অনেককেই আমার সাথে মামলার আসামী করা হয়েছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
মোশাররফ হোসেন জানান, আমার চাচাতো ভাইদের সাথে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে এরফান আলীর। কিন্তু এর জের ধরেই আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ডাকাতির দুটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এমনকি আমার পাঁচ ভাইকে এই মামলায় আসামী করেছে এরফান আলী। আমার মতো গ্রামের ৬০-৭০ জনের বিরুদ্ধে ২০-২৫টি মামলা দিয়ে হয়রানি করে বিভিন্ন মানুষদের।
নওগাঁর নিয়ামতপুরের ছাত্রা গ্রামের সুমেরা খাতুন। তার বাবা বাশেত আলী ৩৫ বছর আগে পরলোকগমন করেছেন। তিনি বলেন, রসুলপুর ইউনিয়নের চোরাপাড়া গ্রামে সাড়ে ৩ বিঘা জমি ছিল আমার বাবার। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই জমিটি জোরপূর্বক দখল করে নেয় এরফান আলী। অথচ এখনো আমরা সেই জমির খারিজ-খাজনা পর্যন্ত দিচ্ছি। জমির দখল চাইলে মামলার হুমকি দেয়, ভয়ভীতি দেখায়।
এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোনে পাওয়া যায়নি এরফান আলীকে।
মেরাজ আলী সুমন মুঠোফোনে বলেন, এ নিয়ে ফোনে কথা বলতে চাই না, সরাসরি কথা বলব। মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ খবর নেন আপনারাই।