মো. নয়ন © সংগৃহীত
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিয়ের মাত্র তিন দিন আগে মো. নয়ন (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নয়ন উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা উঠান মাঝির বাড়ির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং উঠান মাঝিরঘাট কমিটির সাবেক সভাপতি মো. নাসিরের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে নয়ন ছিল বড় এবং ছোট ভাই রাজন সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী। তিনি বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আগামী বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নয়নের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। এ উপলক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি জ্বর, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার ভোরে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাঁকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার জন্য রওনা দেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও জানান, ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে শুধু প্রবাস থেকে দেশে ফিরছেন নিহতের ছোট ভাই মো. রাজন। সোমবার রাত এগারোটার দিকে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নয়নের প্রতিবেশী মো. ইদ্রিচ বলেন, ‘৯ এপ্রিল তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সব প্রস্তুতি শেষ, আর মাত্র তিন দিন বাকি ছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল, কিন্তু পথেই তিনি মারা যান। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে এসে কাফন-দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
নিহতের চাচা মো. শৈবাল বলেন, ‘বাড়িতে বিয়ের আনন্দের পরিবেশ ছিল। আত্মীয়স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ এমন ঘটনায় পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। আমরা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে নয়ন আর নেই।’
নিহতের বাবা মো. নাসির বলেন, ‘ছেলের বিয়ের সব আয়োজন শেষ করেছিলাম। কয়েক দিন ধরে জ্বর ছিল, চিকিৎসাও চলছিল। ভোরে হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু তাকে আর বাঁচাতে পারলাম না। আল্লাহ এমন শোক যেন আর কোনো বাবাকে না দেন।’
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আবু রায়হান বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’