পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৩ PM
রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন

রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন © টিডিসি

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাজশাহী অঞ্চলে সম্ভাব্য মরুকরণ রোধে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের দাবিতে রাজশাহীতে  মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে এ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), রাজশাহী জেলা কমিটি। এতে সহযোগিতা করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, উত্তরবঙ্গ একটি কৃষিনির্ভর অঞ্চল হলেও দীর্ঘদিন ধরে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদী দখল, দূষণ, খাল-বিল ভরাট ও অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পদ্মা নদীর ওপর ব্যারাজ নির্মাণ ছাড়া টেকসই সমাধান নেই।

বাপার নেতারা বলেন, ফারাক্কা চুক্তির সুফল এখনো দৃশ্যমানভাবে পাওয়া যায়নি। এ বছর চুক্তি শেষ হতে চলেছে। চুক্তি অনুযায়ী পানি না আসার ফলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানির অভাব দেখা দেয়, আবার বর্ষায় অতিরিক্ত পানি বন্যা ও নদীভাঙনের কারণ হয়।

তারা বলেন, ‘নদী শুধু একটি জলাধার নয়, এটি  জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ যদি নদী দখল বা দূষণের চেষ্টা করে, আমরা তা মেনে নেব না।’

দুর্গাপুরের প্যানেল চেয়ারম্যান রুপালী খাতুন বলেন, ‘পানি ছাড়া কৃষি সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ, তিনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে পরিবেশ ও কৃষিকে রক্ষা করুন।’

বাপা নেতা রায়হান আলী জুয়েল বলেন, অধিকার আদায়ে এখনো আমাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হয়, যা দুঃখজনক। নদী দখল ও দূষণের ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

বাপার তানোর উপজেলা নেতা মফিজউদ্দিন সরকার বলেন, খাল-বিল ভরাট ও দখল বন্ধ করতে হবে। জলাধারগুলো সংরক্ষণ করে কৃষকদের জন্য পানি নিশ্চিত করতে হবে।

বাপার পবা উপজেলার নেতা রহিমা বেগম বলেন, ‘নদী যেন খালে পরিণত না হয়, সে জন্য দ্রুত খনন ও দখলমুক্ত করা জরুরি। আমরা আগের মতো নদীর স্বাভাবিক রূপ ফিরে পেতে চাই।’

সমাবেশে বাপার রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান বলেন, ‘রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এখন পানির তীব্র সংকট চলছে। অনেক স্থানে মানুষ সুপেয় পানির জন্য মাইলের পর মাইল হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছে। কৃষিকাজ, দৈনন্দিন জীবনসহ সব ক্ষেত্রেই পানির অভাব ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধানে আমরা রাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়ে আসছি, কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।’

জামাত খান বলেন, ‘যদি দ্রুত পানি ব্যবস্থাপনার টেকসই সমাধান না করা হয়, তবে উত্তরাঞ্চলের খাদ্যশস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি ভবিষ্যতে লবণাক্ততার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে রাজশাহী অঞ্চল মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ হলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ, সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দ্রুত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন, নদী খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পানি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই।’

যশোরে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় ৬২ ধনী নারী, তিন কর্মকর্তার …
  • ০৪ জুন ২০২৬
পুকুরে গোসল করতে নেমে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
  • ০৪ জুন ২০২৬
সুন্দরবনে অস্ত্র-গুলিসহ বনদস্যু আটক, আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল কো…
  • ০৪ জুন ২০২৬
মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক নিয়োগ দেবে সার্ভিস কোঅর্ডিনেটর, আবে…
  • ০৪ জুন ২০২৬
২৪ ঘণ্টায় হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
  • ০৪ জুন ২০২৬
জিয়াউর রহমানের দেখানো পথেই এগিয়ে যেতে চায় বিএনপি : মির্জা ফ…
  • ০৪ জুন ২০২৬