ছয় মাসে হাতে লিখে সম্পন্ন করেছেন রত্না আক্তার © টিডিসি
মেহেরপুরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এক হাতে পবিত্র কোরআন লিখে আলোচনায় এসেছেন রত্না আক্তার। তার অসাধারণ এ ক্যালিগ্রাফি ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জানা যায়, ইসলামিক ক্যালিগ্রাফির প্রতি আগ্রহ থেকে রত্না আক্তার মাত্র ছয় মাসে হাতে লিখে সম্পন্ন করেছেন পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ ৩০ পারা। পাশাপাশি তিনি আল্লাহ তায়ালার ৯৯টি নাম ও আয়াতুল কুরসিও লিপিবদ্ধ করেছেন।
রত্না আক্তারের বাড়ি গাংনী উপজেলার কাথুলী গ্রামে। বর্তমানে তিনি মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ায় বোনের বাসায় বসবাস করছেন। পারিবারিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানকে নিয়ে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তিনি।
জানা যায়, এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিজের একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে একটি হাত হারান রত্না। তবে এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ধর্মীয় বিশ্বাসকে শক্তি করে তিনি এক হাতেই ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে এই বিরল কীর্তি গড়ে তুলেছেন।
পুরো কোরআন লিখতে তার সময় লেগেছে প্রায় ছয় মাস। এ কাজে তিনি ব্যবহার করেছেন প্রায় ১৬০টি কলম ও প্রায় ১০ হাজার টাকার আর্ট পেপার; মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।
তার এই সাফল্যের পেছনে পরিবারের সদস্যদের বিশেষ করে মা-বাবা ও বোনের অবদান রয়েছে বলে জানা যায়।
রত্না আক্তারের স্বপ্ন, একদিন ওমরাহ পালন করা এবং মক্কার কোনো জাদুঘরে ‘One Handed Calligrapher’ হিসেবে নিজের নাম স্থান করে নেওয়া।
তার এই অসাধারণ উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি তার বাসায় যান মেহেরপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম। তিনি প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক সিরাজুম মুনিরও তাকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।