নিহত মেহেদী হাসান আবির © টিডিসি
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে মেহেদী হাসান আবির (২৫) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে সুগন্ধা সৈকতে এ দুর্ঘটনা ঘটে, যে কারণে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে নিহত আবির বান্দরবান জেলার আজিজ নগর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করতেন এবং রিয়াজুদ্দিন বাজারে একটি সিসিটিভি ক্যামেরার দোকানে কর্মরত ছিলেন। সহকর্মীদের মতে, তিনি ছিলেন শান্ত ও পরিশ্রমী স্বভাবের একজন যুবক।
আবির তার তিন বন্ধু আরিফুল ইসলাম, তানজিন ও মারুফুল হাসান রিপনকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। দিনের এক পর্যায়ে তারা সুগন্ধা সৈকতে সময় কাটাতে যান এবং দুপুর প্রায় ২টার দিকে সমুদ্রে গোসলে নামেন।
গোসলের একপর্যায়ে হঠাৎ করেই আবির উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে যান এবং স্রোতের টানে দ্রুত গভীর জলে ভেসে যান। তাঁর সঙ্গীরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় আশপাশের লোকজনও উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দেন, তবে ততক্ষণে আবির নিখোঁজ হয়ে যান।
প্রায় তিন ঘণ্টা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর বিকেল ৫টার দিকে তাঁর মরদেহ সৈকতের পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে সি সেফ লাইফগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সি সেফ লাইফ গার্ডের টিম লিডার ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘সৈকতে গোসলের সময় আমরা নিয়মিত নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়ে থাকি। কিন্তু অনেক পর্যটক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’ তিনি সবাইকে লাল পতাকা ও সতর্ক সংকেত মেনে চলার আহ্বান জানান।
এদিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে অসতর্কতার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললেই এ ধরনের প্রাণহানি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।