ঈদযাত্রায় যশোরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৫৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের অধিকাংশই তরুণ। মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতির কারণে এসব দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রার খাতা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
রেজিস্ট্রার খাতার তথ্যানুযায়ী, ঈদের দিন থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত যশোরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যশোর সদর উপজেলায় আহতদের সংখ্যা বেশি। এদের মধ্যে অন্তত ১০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেছেন চিকিৎসক।
জানা গেছে, তরুণদের অসতর্ক ও নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটরসাইকেল চালানোয় বাড়ছে দুর্ঘটনা। গত ঈদুল আজহার দিন (৬ জুন) থেকে এই পর্যন্ত যশোরে যশোরে অন্তত ২৫ তরুণের মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। তবে এবারের ঈদুল ফিতরের উৎসবে যশোরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহতের সংখ্যা বেড়েছে। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবকেরা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলেছেন। উচ্চ শব্দে হর্ন বাজিয়ে, আঁকাবাঁকা পথে ও চলন্ত যানবাহনের সামনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এতে শুধু নিজেরাই নয়, অন্যরাও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, যে কোন উৎসবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল কেড়ে নিচ্ছে তরুণ প্রাণ, ভেঙে দিচ্ছে পরিবারগুলোর স্বপ্ন। তরুণদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেয়ার বিষয়ে অবশ্যই অভিভাবদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইনস্পেক্টর ইউসুফ আলী চৌধুরী (পিপিএম) জানান, তরুণরা উৎসবের দিনে প্রতিযোগিতার মতো বাইক চালায়। পরিবার ও অভিভাবকেরাও এতে বাধা দিচ্ছেন না, যা উদ্বেগজনক। ঈদ উৎসবে বেপরোয়া বাইক চালকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শহর ও শহরতলীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়। নিবন্ধনবিহীন ও লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।