কলাগাছে ফেস্টুন টানিয়ে আলোচনায় জসিম © টিডিসি ফটো
বৃক্ষের প্রতি ভালোবাসা আর পরিবেশ সচেতনতার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) প্রার্থী। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি গাছে পেরেক বা তার ব্যবহার না করে কলাগাছে সুতা দিয়ে ফেস্টুন টানিয়ে এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন এবং আলোচনায় এসেছেন।
জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর সোনারায় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য প্রার্থী জসিম উদ্দিন ঈদ উপলক্ষে তার ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে ফেস্টুন টানান। তবে প্রচলিত নিয়মে গাছে পেরেক বা লোহার তার ব্যবহার না করে তিনি পরিবেশের কথা বিবেচনা করে বিকল্প পদ্ধতি বেছে নেন।
তিনি কাঠজাত বৃক্ষের ক্ষতি এড়াতে কলাগাছে সুতা দিয়ে ফেস্টুন বেঁধে দেন। তার এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাধারণত প্রচারণার কাজে গাছের গায়ে পেরেক বা তার ব্যবহার করা হয়, যা গাছের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু জসিম উদ্দিন ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়ে পরিবেশ সচেতনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এ বিষয়ে জসিম উদ্দিন বলেন, "বিগত সময়গুলেতে নির্বাচনী ফেস্টুনগুলো গাছে পেরেক দিয়ে টাঙানো হতো, যা গাছের ব্যাপক ক্ষতি করত। এবার ফেস্টুন লাগানোর সময় কিছু জায়গায় বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তাই আমি নির্দেশ দিয়েছি, গাছের ক্ষতি না করে, যেখানে সম্ভব কলাগাছেও সুতা দিয়ে বেঁধে ফেস্টুন লাগানো হোক। এতে আমি মনে করি গাছকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সদিচ্ছা থাকলে উন্নয়ন কিংবা প্রচারণার মধ্যেও প্রকৃতিকে রক্ষা করা যায় এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।"
ওয়ার্ডের স্থানীয় শিক্ষক আমিনুল ইসলাম লিটন জসিমের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "প্রার্থী হিসেবে নিজের প্রচারণার মধ্যেও যদি প্রকৃতির প্রতি সচেতনতা দেখানো হয়, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি অন্যান্যদের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।"
একই সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা সামিউল ইসলাম মন্তব্য করেন, "ফেস্টুনের নামে গাছের ক্ষতি করা অন্যায়। জসিমের এই পদক্ষেপ প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করছে। আশা করি, ভবিষ্যতেও এই রকম দায়িত্বশীল প্রচারণার উদাহরণ দেখানো হবে।"
গাইবান্ধা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ শের আলম বলেন, “গাছে পেরেক বা তার ব্যবহার করলে বৃক্ষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।”
স্থানীয় এলাকাবাসী মনে করেন, এমন উদ্যোগ অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।