তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, বিলীন হচ্ছে তীরের প্রতিরক্ষা বাঁধ

০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:১৮ PM
তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে

তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে © টিডিসি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার বাবুরহাট লঞ্চঘাট-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী প্রতিরক্ষা বাঁধ ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নজরুলনগর ও বিচ্ছিন্ন মুজিবনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজারো মানুষ।

রবিবার (৮ মার্চ) সরজমিন দেখা গেছে, নজরুলনগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুরহাট লঞ্চঘাট-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর বুক চিরে দিনের আলোতেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। অন্তত ৭ থেকে ৮টি বিশালাকার ড্রেজার জাহাজ দিয়ে প্রতিনিয়ত নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। এতে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে এবং নদীশাসনের জন্য ফেলা কংক্রিট ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।

বাবুরহাট ঘাটের মুদি ব্যবসায়ী রিয়াজ সমাজকর্মী জাহিদসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, নজরুলনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়দের দাবি, তার অনুমতি ছাড়া ওই এলাকায় নদী থেকে এক বালতি বালুও উত্তোলন করা সম্ভব নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ড্রেজার চালক জানান, প্রতিটি ড্রেজার জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার টাকা করে ‘মাসোহারা’ দিতে হয়। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ১২ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেন এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম সহযোগী মাহমুদুল হাসানের বড় ভাই এবং স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহিদুল শিকদার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এই অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রমকে প্রশাসনিকভাবে আড়াল করছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এ ছাড়া একই ইউনিয়নের যুবদল নেতা রুবেল শিকদার ও তানজিব নামের আরও দুজন এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।

এদিকে বাবুরহাট লঞ্চঘাট-সংলগ্ন নদী রক্ষা বাঁধ এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আনিসুর রহমান জুলফিকার বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদী শাসনের জন্য ফেলা বড় বড় ব্লকগুলো ধীরে ধীরে নদীর গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান মুন্সি বলেন, ‘ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত তৈরি হচ্ছে। সামনে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন তীব্র হলে নজরুলনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে নজরুলনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, ‘বালু উত্তোলনের সঙ্গে আমি জড়িত নই। ইতোমধ্যে আমি বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।’ নদী থেকে তাহলে কে বালু উত্তোলন করছে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেই জানি না কারা আসলে বালিু উত্তোলন করছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হক বলেন, ‘বাবুরহাট-সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি জেনেছি। যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
  • ১৬ জুন ২০২৬
দুই গ্রামের সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের, আহত অনেকে
  • ১৬ জুন ২০২৬
মার্কিন বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত
  • ১৬ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচসহ টিভিতে আজকের খেলা
  • ১৬ জুন ২০২৬
আপনারা মনে হয় হাসিনার আমল থেকে শিক্ষা নেননি: ফাহাম
  • ১৬ জুন ২০২৬
পিছিয়ে পড়েও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ইরান
  • ১৬ জুন ২০২৬
×